মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মোংলা থেকে: মংলার বহু প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর- যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও- এখনো কার্যকর নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বিমানবন্দরটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মংলা–খুলনা মহাসড়কের ফয়লা এলাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিমানবন্দর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালে প্রায় ৬২৭ একর জমি অধিগ্রহণ এবং একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন পেলেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। দীর্ঘ সময়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাট ছাড়া কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ হয়নি, যা নিয়ে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মহলে হতাশা বাড়ছে।
রহিম ফিশ খুলনার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম এ হাসান পান্না জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর চালু থাকলে আমদানি করা চিংড়ির মাদার পোনা ও অন্যান্য লাইভ প্রোডাক্ট পরিবহনে সময় ও ক্ষতির ঝুঁকি অনেক কমে যেত। বর্তমানে ঢাকায় অবতরণের পর আবার সড়কপথে খুলনায় নিয়ে আসতে অতিরিক্ত সময় লাগে, যা লাইভ ফিশ পরিবহনে নানা সমস্যা তৈরি করে।
মোংলা বন্দর সি অ্যান্ড এফ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন বলেন-বিমানবন্দরের অভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে আসতে আগ্রহী হন না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও তাদের বিদেশি ক্লায়েন্ট বা বায়ারদের আনতে অসুবিধায় পড়েন, ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সম্ভাবনাময় বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর দ্রুত নির্মাণের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মাকরুজ্জামান মুন্সী বলেন- বিমানবন্দর হলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত যাতায়াত ও কার্গো পরিবহন সুবিধা পাবেন। পদ্মা সেতু চালুর পর যেভাবে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হয়েছে, বিমানবন্দর যুক্ত হলে এতে আরও গতি আসবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর মেহেদী হাসান মনে করেনÍএই অঞ্চলে শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি বিমানবন্দর অত্যন্ত জরুরি। বিমানবন্দরটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন আরও বিস্তৃত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
এদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনে প্রকল্পটি পুনরায় সচল হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিএনপির এক স্থানীয় নেতা। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম বলেন- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থেমে থাকা অযৌক্তিক এবং সুযোগ পেলে তারা বিমানবন্দর প্রকল্পটি আবারও চালু করার উদ্যোগ নেবেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এবং যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ করতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সবাই।