যশোরের রুকন শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আয়োজনে শনিবার(১৬মে) দিনব্যাপী রুকন শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তন (বিডি হল)-এ অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা শিবিরে দলীয় নেতৃবৃন্দ ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, দাওয়াতি কাজ, আদর্শ পরিবার ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসেন বলেন, আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দাওয়াতি কাজকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ইতিবাচক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হবে। সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আনুগত্য, পরামর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ইসলামী আন্দোলনের শক্তির মূলভিত্তি। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব নয়।

তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে সততা, আদর্শিক দৃঢ়তা ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

আমিরে জামায়াতের সাম্প্রতিক জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমিরে জামায়াত ৭ দিনের জাপান সফর শেষ করে এসেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কাজে নয় বরং রাষ্ট্রের উন্নতিকল্পেই তিনি সময় ব্যয় করেছেন। দেশে কোনো ভালো ক্যান্সার হাসপাতাল না থাকায় তিনি জাপান সরকারের উচ্চপর্যায়ে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশে একটি ‘ক্যান্সার ইনস্টিটিউট’ ˆতরি করার জন্য, যেন শুধু রোগ নিরাময়ই নয়, দেশের চিকিৎসকরাও সেখান থেকে শিখতে পারেন।

এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী দেশ জাপানের কাছে তিনি দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেছেন এবং জাপান সরকার এ বিষয়ে একটি টেকনিক্যাল টিম পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অতীতের বিরোধী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতের মানুষ বিরোধী দল বলতে ১৭১ দিন হরতাল, ওয়াকআউট আর হুমকিধমকি দেখেছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো শব্দচয়ন বা আচরণ করেননি।

দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরে মোবারক হোসেন বলেন, আমিরে জামায়াত নিজে পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে নতুন যারা ক্ষমতায় আসছে, তাদেরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দেওয়া লাগে

যেখানে দোকানের ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া লাগছে। জুলাইর গণঅভ্যুত্থানকারীরা কি এই চাঁদাবাজির পুনরাবৃত্তি চেয়েছিল?" তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা কেজির করলা খুচরা বাজারে এসে ৮০ টাকা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, বাজারে কোনো মনিটরিং নেই এবং সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অর্থনীতি ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভঙ্গুর করে রাখা হয়েছে। আমরা এই সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি উচ্ছেদ করে মানুষের ¯স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাই। আগামী জুন মাসের বাজেট অধিবেশনে জামায়াতের বিশেষজ্ঞরা অর্থবহ আলোচনা করবেন। আওয়ামী সরকারের সর্বশেষ সাড়ে আট লক্ষ কোটি টাকার বাজেটের ৩৫ শতাংশ টাকাই শেখ হাসিনা পরিবার লোপাট করেছে। তাই মেগা খাতের নামে টাকা মারার বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই।

বাজেট প্রয়োজনে কম হোক, তবে প্রপার ইউটিলাইজেশনের মাধ্যমে যেন মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

তিনি রুকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা একটি অতি দায়িত্বশীল সংগঠন এবং বর্তমানে বিরোধী দলে আছি। অতীতের মতো শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে, সরকারকে সঠিক ট্র্যাকে রাখতে এবং মানুষকে একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র উপহার দিতে যা যা করণীয়, ইনশাআল্লাহ আমরা তাই করব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. মাওলানা মোহাম্মাদ আব্দুস সামাদ আদর্শ পরিবার গঠনের মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি বলেন, পরিবারই হচ্ছে মানবিক ও ˆনতিক শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান।

পরিবারে ইসলামী মূল্যবোধ চর্চা নিশ্চিত করতে পারলে সমাজ থেকে অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অপরাধ অনেকাংশে দূর হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ˆনতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং ইসলামী আদর্শভিত্তিক পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও অঞ্চল সহকারী পরিচালক আবু সাদিক বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রই প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত, ˆবষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আদর্শের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সংগঠনের রুকনদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই এ শিক্ষা শিবিরের মূল লক্ষ্য। তিনি নেতাকর্মীদের ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শিক্ষা শিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন যশোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর এম এম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, মনিরুল ইসলাম, পেশাজীবী থানা সভাপতি খন্দকার রাশিদুজ্জামান রতন, জেলা কর্ম পরিষদের সদস্য আবুল হাশেম রেজাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।