জুবায়ের হোসেন, নাটোর : নাটোরের সফল উদ্যোক্তা হাফিজুর রহমান ময়না’র উৎপাদিত প্রাকৃতিক মধুসহ বিভিন্ন খাদ্য সারাদেশে সমাদৃত। সফল এই উদ্যোক্তা লাভের একটা অংশ ব্যায় করেন সমাজিক কাজে। কাজী নজরুলের সংকল্পের মতঃ ‘থাকব না’ক বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে’। ‘যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে’ ময়নার যেন ছুটে চলা! নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহমেদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে তুলেছেন মধু সাম্রাজ্য। মধু প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় প্রতিবছর সংগ্রহ করা হয় দেড়শ’ টন মধু। আবাদী জমির অন্তত একশ’ খামার থেকে প্রতিবছর সংগ্রহ করা হয় চাষাবাদকৃত লিচু, সরিষা, ধনিয়া আর কালোজিরা ফুলের মধু। সংগ্রহকৃত মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে সারাদেশে।

শনিবার বিকেলে সফল উদ্যোক্তা ময়না সংগ্রামকে বলেন, তার ‘ন্যাচারাল ফুডস প্রোডাক্ট’এর মধুসহ অন্যান্য উৎপাদিত ১৬টি পণ্য ‘বিএসটিআই’ অনুমোদিত। এসব পণ্য রাজধানীর সাইন্স ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষিতও বটে। ময়না বিসিক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন। ময়না নিজে সফল উদ্যোক্তা হয়ে থেমে গেছেন এমন নয়, এলাকার অসংখ্য তরুণকে পরামর্শ দিয়ে তাদেরকেও উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা করেছেন।

ময়না জানান, তার সফলতার এই গল্পের সূচনা হয়েছিল ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে। ঐ সময় ঢাকার গ্লোরি স্কুল এন্ড কলেজ এবং সাউথ পয়েন্টে শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। করেনাকালীন সময়ে অনলাইনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় জনপ্রিয় হয়ে উঠে। নাটোরের খেজুরের গুড় ঢাকাতে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে দেখে আশান্বিত হন তিনি। খেজুরের গুড়সহ অন্যান্য পণ্য অনেক অল্প দামে সরবরাহ করা সম্ভব হিসেব করে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেন ময়না। চাকুরী ছেড়ে আড়াই লাখ টাকার ডিপিএস ভেঙে নেমে পড়েন ব্যবসায়ে। শিক্ষকতা ছেড়ে এই ব্যবসায় নামায় তার স্ত্রী রমিসা খাতুন অবশ্য স্বামীকে বদ্ধ পাগল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। হাফিজুর রহমান ময়না জানান, তাদের পারিবারিক পরিমন্ডলে ছিলো তীব্র আর্থিক সংকট। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবা জিন্নাত আলী’র পক্ষে ময়নাসহ দুই ছেলের পড়াশুনার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব ছিলো না।

ব্যবসায়ের পাশাপাশি ময়নার নেশা পড়াশুনায়। তাই তাঁর চেম্বার জুড়ে অসংখ্য বই, যেন মিনি লাইব্রেরী। শুধু পড়াশুনা নয় আরো এক নেশায় আসক্ত ময়না। এই নেশা মানুষের কল্যাণে কাজ করা। গড়ে তুলেছেন ‘ময়না ভাই ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশন কাজ করছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, রক্তদান, বৃক্ষরোপন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও শিক্ষা সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক অঙ্গনে। খেলাধূলার ঝোঁক থেকে খেলার মাঠে তাঁর সরব উপস্থিতি। প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ময়না ভাই স্পোটিং ক্লাব’। নাটোরে ফুটবল লীগের ফাইনালে তার ক্লাব চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। ময়না তার ব্যবসায়িক মুনাফার একটা অংশ নিয়মিত ব্যয় করেন সমাজ কল্যাণমূলক কাজে।