কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের মহম্মদপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুই ভাইসহ তিন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুর বেদনায় নিস্তব্ধ সেই গ্রামটিতে রোববার (৭ নভেম্বর) গভীর রাতে পৌঁছে যান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ ইকবাল হোসেন। রাত সাড়ে ১১টায় তিনি নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের সহমর্মিতা জানানোর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৭৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল ও প্রয়োজনীয় শুকনো খাবারও প্রদান করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, সদকী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এনামুল হক এবং থানা পুলিশের কর্মকর্তারা।

নিহত তিনজন—সুমন মণ্ডল (২৫), রিমন মণ্ডল (১৪) এবং আশিক মোল্লা (২২)—সবাই চাচাতো ভাই। বোনের শাশুড়ির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে ফেরার পথে শনিবার রাত ১টার দিকে ফরিদপুর–ভাঙ্গা–বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর কবরস্থানের সামনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। ঢাকায় আসবাবপত্র তৈরির কাজ করতেন সুমন ও রিমন। তাদের সঙ্গী ছিলেন আশিক, তিনিও একই এলাকার তরুণ।

জেলা প্রশাসক পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার সময় শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ আরও ভারী হয়ে ওঠে। হাহাকারে ভরে ওঠে উঠোন। নিহত সুমন ও রিমনের মা–বাবা, আশিকের স্বজনেরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, যার সবই মুহূর্তে নিভে গেছে। স্বজনদের আর্তি শুনে ডিসি বলেন,

“দুর্ঘটনা কারও জীবনে অকাল অন্ধকার নামিয়ে আনে। রাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এখনই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

পুরো মহম্মদপুর গ্রামজুড়ে এখন একটাই সুর—হারানোর বেদনা। তিন তরুণের মৃত্যুতে গ্রামবাসী, প্রতিবেশী এবং স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে শোকস্তব্ধ।