কালিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : প্রতিদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন, বাজার তদারকি এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপসহ একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে তিনি হঠাৎ করেই কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাসেবার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার দাস জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে ৫ জন কনসালটেন্ট, ২ জন দন্ত চিকিৎসক ও ১ জন হোমিও চিকিৎসক রয়েছেন। বিদ্যমান চিকিৎসক দিয়ে সেবা প্রদান সম্ভব হলেও ২৪ জন নার্সের বিপরীতে ৩ জন নার্সের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ১ জন প্রধান সহকারী ও ১ জন হিসাবরক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি এফপিডি নামক একটি যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী মাত্র ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে জাহেদী ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ১০ জন বেসরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

খাবার পানির সংকট প্রসঙ্গে জানানো হয়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সাপ্লাই লাইনসহ আনুষঙ্গিক কাজ অসমাপ্ত থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আকমল হোসেন বলেন, ”নলকূপটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ বাকি আছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে নলকূপটি চালু করা সম্ভব হবে।”

সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ওলিউর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মাওলানা লুৎফর রহমান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পণ্যের মূল্য, সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করেন। ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে শহরের বিভিন্ন সড়কে একটি প্রভাবশালী মহলের ভ্যান-রিকশা থেকে অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেন তিনি। তার এ দৃঢ় অবস্থানকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এ ধরনের সক্রিয় ও জনমুখী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।