খুলনা নগরীর ব্যস্ততম সড়ক, মোড় থেকে শুরু করে অলিগলিতে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। ভোগান্তির সীমা নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই যানজটের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অনিয়ন্ত্রিত মোটরচালিত রিকশা এবং অসংখ্য ইজিবাইক দখল করে রেখেছে প্রধান প্রধান সড়ক। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব এলেই সৃষ্টি হয় তীব্র এ যানজটের। নগরীর শিববাড়ী, পাওয়ার হাউজ, ফেরিঘাট, ডাকবাংলো, শান্তিধাম, ময়লাপোতা মোড়, শামসুর রহমান রোড, কমার্স কলেজ মোড়, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিমেট্টি রোড, স্যার ইকবাল রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, সাতরাস্তার মোড়, ফুলমার্কেট, ক্লে রোড, কদমতলা স্টেশন রোড, কালীবাড়ি রোডসহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কে প্রতিদিনই আটকে পড়ছেন কর্মব্যস্ত মানুষ। এসব স্থান দখল নিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও বেপরোয়া মাহেন্দ্রা।

ঈদের আছে আর বাকী ১০ দিন। এ সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাইরে থেকে অতিরিক্ত ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা শহরের বুক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এ কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে তীব্র যানজট। এ কারণে ক্ষুব্ধ নগরবাসী।

কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ ইজিবাইক ও অনিয়ন্ত্রিত মোটরচালিত রিকশা যানজটের মূল কারণ। যানজট নিরাসনে নগরীর বিভিন্নস্থানে ৩৮৮ জন পুলিশ কাজ করছেন। ১০ হাজার ইজিবাইকের চলাচলের অনুমতি থাকলেও অতিরিক্ত আরও ১৫ হাজার মোটরচালিত রিকশা খুলনার বুক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।’ তিনি বলেন, বেলা ১১টার পর থেকে পিকচার প্যালেস-থানার মোড় পর্যন্ত যানবাহনের গতি স্লো হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার সচল হয়। তাছাড়া সড়কে চলাচলের জন্য যে কোনো বহনকে বিআরটিএ পারমিট দেয়। একমাত্র খুলনায় ইজিবাইক চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়েছে কেসিসি। সড়কে যদি যানজট বাধে তাহলে এটা দেখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের, আমাদের নয়। তারপরও এটা নিরাসনে কেএমপি’র ট্রাফিক ভবন আপ্রাণ চেষ্টা করছে।’ ডাকবাংলো মোড়ে কথা হয় শহীদুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই। মোড়ে মোড়ে অঘোষিত স্ট্যান্ড তৈরি করেছে ইজিবাইকের চালকরা। অদক্ষ চালকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যেখানে সেখানে পরিবহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। বিবিধ কারণে যানজটের মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় যেটা দেখার কেউ নেই।’ ইজিবাইক চালক আব্দুর রহিম জানান, ‘অনুমোদিত যাত্রী পরিবহনে ইজিবাইকের সঠিক সংখ্যা আট হাজার। বছর ঘুরে যে কোনো উৎসব এলেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে শহরের বাইরে থেকে অনুমোদনবিহীন পরিবহন শহরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করে তীব্র যানজট।’