ঝিনাইদহ সংবাদদাতা:

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। খোদ জেলা প্রশাসক বাদী হয়ে সদর থানায় গত শনিবার রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে বিষয়টি গতকাল সোমবার জানাজানি হয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলোতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সখ্যতার ছবি সংযুক্ত করে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়।

জিডিতে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ উল্লেখ করেন, গত ২৬ মার্চ রাতে ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বাসভবনে অবস্থানকালে তিনটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। পরদিন ২৭ মার্চ আরও পাঁচটি আইডি থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়। এসব কর্মকা-ে তার সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন জানান, ডিসি স্যার জিডি করেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।

উল্লেখ্য, জিডিতে উল্লেখিত ফেসবুক আইডিগুলোতে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাকে প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা দাবি করা হয়। কখনো তাকে ছাত্রলীগ, কখনো শিবির, আবার কখনো ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তার চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ের কর্মকা- নিয়েও নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। কিশোরগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় প্রভাব বিস্তার, বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গাছ কাটা সংক্রান্ত অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ইউএনও থাকাকালে উন্নয়ন কর্মকা-ে অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা, পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও এসব পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন, নারী সংশ্লিষ্ট আচরণ, বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক লেনদেন, পরিবেশ অধিদপ্তরে কর্মরত অবস্থায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া, ইটভাটা সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানির কারণ হতে পারে।