মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মোংলা : হাজার হাজার ফাঁদ উদ্ধার হওয়ার পরও সুন্দরবনে হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী পাচারের তৎপরতা থামছে না। একদিকে সংঘবদ্ধ চক্র অবাধে হরিণ পাচার করছে, অন্যদিকে তাদের পাতা ফাঁদে আটকে পড়ে বাঘসহ নানা প্রজাতির প্রাণী প্রাণ হারাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের সামগ্রিক বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে, যা বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্যও উদ্বেগজনক।
বন বিভাগ জানায়, প্রায় প্রতিদিনই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে হরিণ শিকারের অসংখ্য ফাঁদ উদ্ধার করা হচ্ছে। তবুও শিকারিদের তৎপরতা কমছে না। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পূর্ব সুন্দরবনের একাধিক স্থানে চোরা শিকারীদের পাতানো ফাঁদে আটকে পড়া হরিণসহ বহু প্রাণী উদ্ধার করা হয়। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের সুরকির খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ফাঁদে আটকে পড়া একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘও উদ্ধার করে বন বিভাগ।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। উদ্ধার করা বাঘটি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বাঘ, আর পুরুষ বাঘের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ঝুঁকির মুখে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি বেশ কিছুদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ চার মাসেই পূর্ব সুন্দরবন থেকে ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ফাঁদ উদ্ধার করলেই বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, যারা সরাসরি এই অবৈধ শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শক্তিশালী যে চক্রটি হরিণ শিকারের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে, আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় চোরা শিকারীরা গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে বা আইনি জটিলতায় মুক্তি পেয়ে যায়। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ফরেস্টার মো. ইফতেখার রাজিব বলেন, আইন যদি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সেকশনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে, তাহলে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কমে আসবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে আরও কঠোর নজরদারি, শক্তিশালী আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।