চাকুরি ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহীতে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতির ব্যানারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।
সোমবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান শেষে মানববন্ধন করেন তারা। ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মূল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করলেও তারা দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন, বিভিন্ন সনদ প্রদান, গ্রাম আদালত পরিচালনা, রাজস্ব আদায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের পদ-মর্যাদা ও সুবিধা এখনো সমন্বয় করা হয়নি। তাদের পাঁচ দফা দাবি হলো- ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ; সময়োপযোগী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা; মন্ত্রণালয় থেকে শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান; অবসর-পরবর্তী শতভাগ আনুতোষিক বা পারিবারিক পেনশন প্রদান ও স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর গঠন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হলেও তারা এখনো ১৪তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে সমপদ ও নি¤œপদের কর্মকর্তারা বেতন উন্নীতকরণের সুবিধা পেলেও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ফাইল বহুবার জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। আরও বলেন, তাদের বেতনের ৭৫ শতাংশ সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হলেও বোনাস ও আনুতোষিক সুবিধায় বৈষম্য রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান হলে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রশাসনিক সেবা আরো গতিশীল হবে এবং গ্রামীণ প্রশাসন আরো শক্তিশালী হবে।
মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মমিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য মিজানুর রহমান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিসুর রহমান, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি বজলুর রহমান, বগুড়া জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম শিমুল, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি ফজলুর রহমান, নাটোর জেলা সভাপতি দুলাল প্রামাণিক, রাজশাহী জেলা সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামানসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।