তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে ঝপঝপিয়া নদী পাড়ি দিচ্ছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ। ওই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হওয়ায় উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের চরবেড়া, চরগোজা, বড় গোজা, মানিকদিয়ার, তেলকুপি, ভরমোহনী ও সাতটিক্রিসহ আশপাশের গ্রামের মানুষজন ডিঙি নৌকায় রশি টেনে পাড়ি দেন পথ।এতে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীদের অভিযোগ অভিযোগ, ১৯৭১ সালের আগে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। কালের বিবর্তনে তা নষ্ট হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আর কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের বারবার আবেদন করেও কেবল আশ্বাস ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি। সলঙ্গা ধামাইকান্দি সড়কের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝপঝপিয়া নদী পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, বাজার, ডাকঘর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, থানা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন এলাকাবাসী। খেয়াঘাটে ষষ্ঠি চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি ডিঙি নৌকায় পারাপার করলেও বয়স হওয়ার কারণে বেশিরভাগ সময় তিনি ঘাটে থাকেন না। ফলে নিজেরাই নৌকার দড়ি টেনে পারাপার করেন।স্থানীয় চরগোজা গ্রামের সত্তরোর্ধ ইছহাক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পঞ্চাশ বছর দড়ি টানি, তবুও সেতুর দেখা পেলাম না। কত নেতা প্রতিশ্রুতি দিল, কেউ কথা রাখে নাই। জীবনে ব্রিজ দেইখা যাইতে পারমু কিনা সন্দেহ।’চরবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরবেড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, মাঝি না থাকায় তারা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হন। দড়ি ছিঁড়ে যাওয়া বা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। অনেকের বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক ভিজে নষ্ট হয়। সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্টু জানান, ঝপঝপিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলজিইডি একাধিকবার জরিপ করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ বলেন, নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব প্রস্তুত করে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
চলনবিলে রশি টেনে নদী পারাপারে ২০ গ্রামের মানুষ
বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে ঝপঝপিয়া নদী পাড়ি দিচ্ছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ।
Printed Edition