দেওয়ানগঞ্জ( জামালপুর) সংবাদাতা : ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদ-নদী বিধৌত দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউনিয়ন। যমুনা নদী গত ৩০ বছরে ইউনিয়টির ১০ কিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড ভেঙে ফেলেছে। ভাঙনের খেলায় থেমে নেই ব্রহ্মপুত্র। ৩৪.৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নটির প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড এখন নদীগর্ভে। স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা না করার ফলেই পুরো ইউনিয়নটি যমুনার গর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে বলে দুঃখপ্রকাশ করছেন ইউনিয়নবাসী।

সম্প্রতি সময়ে ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির হুদার মোড় এলাকা অংশবিশেষ যমুনার গর্ভে চলে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে ইউনিয়নবাসীকে। ফসলি জমি, ভিটেমাটিও প্রতিনিয়ত যমুনার গর্ভে হারাচ্ছেন ইউনিয়নবাসী । নদী ভাঙনের বর্ণনায় স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুস সালাম, মাসুদ আলম, আবু হানিফ, আতিকুল ইসলাম আনম সহ অনেকের ভাষ্য, গত ত্রিশ বছরে যমুনার গর্ভে চলে গেছে ৮ টি গ্রাম। গ্রামগুলো হলো; খোলাবাড়ি, চর ডাকাতিয়া, চর মাগুরিহাট পশ্চিম পাড়া, চর মাগুরি হাট আদর্শ গ্রাম (২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছিলো আদর্শগ্রামটি ), তিন থোবা, পাগলার চর, খাটিয়ামাড়ি, হুদার মোড় এলাকা। বর্তমানে ভাঙন হুমকিতে আছে ইউনিয়নের কেশোর মোড়, চর ডাকাতিয়া পাড়া , মন্ডল বাজার, বাহাদুরাবাদ নৌ থানা, খানপাড়া, বড়খাল, মাঝিপাড়া, পলাশপুর গ্রামগুলো। এছাড়াও হুমকিতে আছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হরিণধরা বাঁধের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ। আরো আছে দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাবাড়ি চর মাগুরিহাট কমিউনিটি ক্লিনিক, চরমাগুরিহাট সড়কের উপর নির্মিত ২০০ মিটার একটি ব্রিজ। বসত ভিটা ভাঙনের দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন রুবিনা খাতুন। তার ভাষ্য, ফসলি জমি সব নদীতে গেছে। নদী ঘরের কোনায় এসেছে। যে কোন সময় ভিটে ভেঙে নিয়ে যাবে। এরপর কোথায় গিয়ে বসবাস করবো দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাটছে। স্থানীয়রা আরো জানান, এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমেই নদী ভাঙন ছিলো। এখন সারা বছর নদী ভাঙছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়ী নদী শাসন ব্যাবস্থা না করা হলে আগামী দুই -তিন বছরের মধ্যেই চিকাজানি ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে । চিকাজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল ইসলাম আক্কাস বলেন , ইউনিয়নবাসীর চলাচলের একমাত্র পাকা সড়কটির প্রায় এক হাজার ফুট সড়ক ভেঙে গেছে । ফলে একদিকে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিয়েছে । অন্যদিকে সড়কটি ভাঙার কারণে পাশ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে । পুরো ইউনিয়নবাসী নদী ভাঙনের ভুগান্তীর শিকার ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হাসান বলেন, যমুনা নদীর ভাঙন বিষয়ে জেলায় অবহতিকরণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ের গভীরতা ২০-২৫ মিটারের বেশি। ভাঙন রোধ বড়োসড়ো প্রকল্পের প্রয়োজন। অস্থায়ী ভাঙন রোধ করতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, চিকাজানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন অস্থায়ী ভাবে রোধ করতে ৮০০ মিটার জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের চাহিদা দেওয়া আছে। পাশ হলে কাজ শুরু করা হবে।