খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক খান মুরাদকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সেনহাটি বক্সীবাড়ি কবরস্থানের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুরাদ হাজী গ্রামের বাসিন্দা খান মুনসুর আহমেদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলা মোড়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন ও সেনহাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলামিনের সাথে মুরাদের বাক-বিত-ার ঘটনা ঘটেছিল। এরই জেরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তার গতিরোধ করে সাজ্জাত ও আলামিনসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন মুরাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য সে বক্সীবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে। দুর্বৃত্তরা ছুরি দিয়ে দুই হাঁটুর নিচের রগ কেটে দেয়।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, যুবদল নেতা মুরাদকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কারণ উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।

খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটা অমানবিক। আমরা অমানবিক এবং এই ঘৃণ্য হত্যাকা-ের নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেফতার হয়; তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।

এদিকে খুলনা জেলা শাখার অধীনস্থ দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।