সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে এবারের বর্ষা মওসুমে নগরীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হবে। পাঁচ বছরে ময়ূর নদ, খালেরপাড়, সড়কের পাশ, কবরস্থান ও বিভিন্ন স্থাপনায় ১৫ হাজার ৭৫টি বৃক্ষরোপণ হবে। রাষ্ট্রের জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩০ লাখ টাকার বাজেট করেছে কেসিসি। সবুজ নগরী খুলনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কেসিসি’র প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর স্বপ্ন।
পরিবেশ দূষণ থেকে নগরবাসীকে মুক্ত, বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ, বসবাস যোগ্য নগরী ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এটি বিএনপি’র নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি একটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ গত ৭ মার্চ সরকারের এ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন।
১০ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মো. রবিউল ইসলাম এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাগিদ দেন। গত ২৫ মার্চ কেসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতান বুশরা, সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন, নগর ও তার পার্শ্ববর্তী দু’উপজেলার কেসিসি’র সম্পত্তিতে বৃক্ষরোপণ কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয় আগত বর্ষায় নগরীর, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় কর্পোরেশনের নিজস্ব সম্পত্তিতে দু’হাজার ৬০০ বৃক্ষরোপণ করা হবে। বাকীগুলো পরবর্তী চার বছরে রোপণ করা হবে। বৃক্ষের মধ্যে থাকবে আম, কাঁঠাল, আমড়া, জাম, বকুল, তাল, নারিকেল, বনজ ও নানা ধরনের কুল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য, পাঁচ বছরে চারা ক্রয়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রোপনে সাত লাখ ১৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং পরিচর্যায় ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা বাজেট করা হয়েছে।
২০২৪ সালে নগরীতে এক হাজার বৃক্ষরোপণে কর্পোরেশনে এক লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয় করে। ২০২৫ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংকের সৌজন্যে নগরীতে ১৫০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়।
নয়া প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর সবুজ নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। কেসিসি’র নির্বাচনেও এটি তার অন্যতম অঙ্গীকার। কেসিসি’র সম্পত্তি কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন বৃক্ষরোপণে অর্থের উৎস এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে কর্পোরেশন যথেষ্ট আন্তরিক। বৃক্ষরোপণ স্থানগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণের জন্য নির্বাচিত উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হচ্ছে জিয়া হল, ইসলামাবাদ ঈদগাহ, সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল, মহেশ্বরপাশা কবরখানা, সাতক্ষীরা রোড, হোসেন সাহা মেইনরোড, মাথাভাঙ্গা, স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড প্রকল্প, সালাহউদ্দিন ইউসুফ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বসুপাড়া কবরখানা, ছডিওচড়া খাল, লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ, ময়ূর নদের পাড়, রিভার ভিউ পার্ক, রাজবাঁধ ডাম্পিং পয়েন্ট, গল্লামারি লিনিয়র পার্ক, জলীল স্মরণি, পাবলা সবুজ সংঘের মাঠ, বয়রা-গোয়ালখালী রোড, মুজগুন্নি মহাসড়ক, পাবলা কেশবলাল রোডের শেষাংশ, দৌলতপুর কলেজ, মুহাসীন স্কুল, দেয়ানা দক্ষিণপাড়া ও মহেশ^রপাশা শহিদ জিয়া মহাবিদ্যালয়।