আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ইসলামের পক্ষের আর বিপক্ষের ভোট --অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সংসদে সবার অংশীদারত্ব থাকবে। কেউ আর ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার ক্ষমতা পাবে না। তিনি বলেন, আমরা একটি চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। আমরা যেন কোন চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও টাকা পাচারকারীদের সহযোগী না হই। ইসলামের জন্য, দেশের কল্যানের জন্য আজ দেশে আওয়াজ উঠেছে। দেশপ্রেমিক ইসলামী শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আওয়াজ ওঠার সাথে সাথেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশ বিভক্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদেরকে রুখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোঁয়া এখনো দেশকে অনিরাপদ করে রেখেছে। পতিত স্বৈরাচার দেশকে অস্থিতিশীল করে সুযোগ নেয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ দলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একই সাথে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনায়, বক্তব্যে ও মন্তব্যে শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। কারণ কোন অবস্থাতেই পতিত ফ্যাসিবাদকে কোন সুযোগ করে দেয়া যাবে না। শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে খুলনা মহানগরীর ঐতিহাসিক বাবরী চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, সকল বন্ধ মিল কলকারখানা চালু ও ইসলামী সমাজ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সংস্কার করে স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, দুনিয়ার কোন আইনে সমাজে সুবিচার করতে পারে না। প্রয়োজন ইসলামী আইন, কুরআনের আইন। কুরআনের ভিত্তিতেই বৈষম্যহীন সমাজ ও সুবিচার কায়েম হতে পারে। এজন্য সব দলের শাসন আমরা দেখেছি, এখন একটাই দেখতে বাকী সেটি হচ্ছে কুরআনের আইন। আজ দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ সবাই ঐক্যবদ্ধ। আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ইসলামের পক্ষের আর বিপক্ষের ভোট।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে হলে পিআর পদ্ধতিতেই নির্বাচন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কি কারণে গুরুত্বপূর্ণ কমন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে দেরি করছি? ফ্যাসিবাদবিরোদী আন্দোলনে যারা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম কমন ইস্যুতে সকলকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব ও মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইমরান হোসাইনের যৌথ পরিচালনায় গণ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মহাসচিব মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শোয়াইব হোসেন, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান।
গণসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, এনসিপি খুলনা মহানগর সংগঠক হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, সেক্রেটারি হাফেজ শহিদুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস খুলনা মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ খুলনা মহানগর সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ খুলনা জেলা সভাপতি আজিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ, এবি পার্টি খুলনা জেলা সেক্রেটারি মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ খুলনা মহানগর সেক্রেটারি গোপাল, পূজা উদযাপন পরিষদ খুলনা মহানগর সেক্রেটারি প্রশান্ত কুন্ডু, আমজনতা পার্টির খুলনা জেলা আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ বাবু, খুলনা জেলা ইমাম পরিষদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা এ এফ এম নাজমুস সাউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, খুলনা জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা শাইখুল ইসলাম বিন হাসান, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওলানা আবু সাঈদ, মাওলানা দ্বীন ইসলাম, এস এম রেজাউল করিম মো. ইমরান হোসেন মিয়া, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম , মাওলানা সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, মাওলানা হারুন আর রশিদ, মো. তরিকুল ইসলাম কাবির, মুফতি আশরাফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সৈকত, মুফতি এনামুল হাসান সাঈদ, মো. হুমায়ুন কবির, মাস্টার জাফর সাদেক, মুফতী ইসহাক ফরীদি, মুফতী আজিজুর রহমান সোহেল, জাহিদুল ইসলাম, গাজী ফেরদাউস সুমন, মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদী, মো. মঈন উদ্দিন ভূইয়া, মাওলানা মাহবুবুল আলম, এডভোকেট কামাল হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফ আলী, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, মোহাম্মদ নুরুল হুদা সাজু, ক্বারী মো. জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, মাওলানা নাসিম উদ্দিন, মুফতি ফজলুল হক, জিএম কিবরিয়া, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, বন্দ সরোয়ার হোসেন,¡ মোহাম্মদ আবু দাউদ, মো. বাদশা খান, শফিকুল ইসলাম, মারুফ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন, মুফতী আমানুল্লাহ, মো. আবু রায়হান, এইচ এম আরিফুর রহমান, মুফতী দেলোয়ার হোসাইন, গাজী মিজানুর রহমান, মাওলানা ওমর আলী, মো. মঈন উদ্দিন, মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, আব্দুস সালাম, আমজাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মাওলানা তাওহীদুল ইসলাম মামুন, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মো. আনোয়ার হোসেন, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মো. শহিদুল ইসলাম সজিব, মো.,কবির হোসেন হাওলাদার, আবুল কাশেম, মো. বাদশাহ খান, মো. মিরাজ মহাজন, মাওলানা আহাম্মদ আলী, হাফেজ ক্বারিমুল ইসলাম, হাফেজ জাহিদুল ইসলাম, মো. আলী আব্দুর রহমান, শিক্ষক নেতা হাফেজ মাওলানা জি এম এমদাদুল হক (এম এ ), মাওলানা মো. মাহাবুবুল আলম, শ্রমিক নেতা এস এম আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা তাওহিদুল ইসলাম মামুন, যুব নেতা মো. আব্দুর রশিদ, মুফতি ফজলুল হক, ছাত্র নেতা মো. মাহদী হাসান মুন্না, মোহাম্মদ ফাহাদ মোল্লা প্রমুখ ।
সমাবেশে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন চরমোনাই পীর। এরা হলেন, খুলনা-১ মাওলানা আবু সাঈদ, খুলনা-২ মুফতি আমান উল্লাহ, খুলনা-৩ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা-৪ হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, খুলনা-৫ মুফতি আব্দুস সালাম ও খুলনা-৬ হাফেজ আসাদুল্লাহ গালিব।
পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, ১৫ বছরের পতিত ফ্যাসিবাদের বিষাক্ত ছোঁয়া এখনো দেশকে অনিরাপদ করে রেখেছে। পতিত স্বৈরাচার দেশকে অস্থিতিশীল করে সুযোগ নেয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ দলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে একই সাথে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সমালোচনায়, বক্তব্যে ও মন্তব্যে শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ কোন অবস্থাতেই পতিত ফ্যাসিবাদকে কোন সুযোগ করে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে দেশ গঠনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন বলে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। সেই সংস্কার হতে হবে রাষ্ট্রের কাঠামোতে, আইনে এবং রাজনৈতিক দলের চরিত্র ও সংস্কৃতিতে। রাষ্ট্রের কাঠামো ও আইনী সংস্কারের কাজ কিছুটা অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক চরিত্র ও সংস্কৃতিতে তেমন কোন পরিবর্তন আসে নাই। ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক হানাহানিতে নিহত-আহত মানুষের সংখ্যা শুনে আঁতকে উঠতে হয়। চাঁদাবাজী কোন অর্থেই কমে নাই। সন্ত্রাসও কমে নাই। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মিডফোর্ট হাসপাতালের সামনে যে বর্বরতায় মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিবাদে জনতা ফুঁসে উঠেছে স্বাভাবিক কারণেই । জনতার সেই প্রতিবাদকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বর্বর সেই হত্যাকান্ডকে আড়াল করে ফেলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে মানুষ এই ধরণের রাজনীতি দেখতে চায় না। এই ধরণের অপরাধের সাথে জড়িতদের একটা বড় অংশ বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপি কর্তৃক তাদের বহিস্কারের মাধ্যমে এটা প্রমানিতও বটে। তাই বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বলবো, কর্মীদের অপরাধের দায়ভার দল হিসেবে আপনাদের বহন করতেই হবে। চাঁদাবাজরা বিএনপির সাথে সম্পৃক্ততা দেখিয়েই জনতার কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। তাই জনতার ক্ষোভ বিএনপির প্রতি হবে এটা স্বাভাবিক। জনতার এই প্রতিবাদকে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে দলের ভেতরে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করুন। অপরাধ ঘটার আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
সমাবেশ মূলত: বিকেল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী উপস্থিত হন। বিকেলে কয়েক দফায় বৃষ্টির মধ্যেও সমাবেশ চলমান ছিল। আসরের নামাযের সময় বৃষ্টি হলে আশপাশের মসজিদ থেকে নামায আদায় শেষে আবারও রাজপথে বসে যান ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।