সাদুল্লাপুর সংবাদদাতা : চুলায় ভাত রান্না করার সময় অসতর্কতায় পড়ে থাকা কাপড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুনে ঝলসে যায় এক গৃহবধূর শরীর। দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় আজ তিনি কোনো উন্নত চিকিৎসা ছাড়াই ঘরের মেঝেতে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে। আহত ওই গৃহবধূ ওই গ্রামের কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দের স্ত্রী আছমা বেগম। ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জানুয়ারি শনিবার সকালে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগুনে তার শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। অথচ টাকার অভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পল্লী চিকিৎসকের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অসহনীয় যন্ত্রণায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য- ঘরের এক কোণে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। মায়ের যন্ত্রণা দেখে ছোট ছোট শিশুরা বারবার কান্নায় বলে উঠছে, “আম্মুকে বাঁচাও, আম্মুকে হাসপাতালে নাও।” কিন্তু অসহায় বাবা আলম আকন্দের চোখের পানি ছাড়া দেয়ার মতো কিছুই নেই।
দিনমজুর কাঠমিস্ত্রি আলম আকন্দ বলেন, “চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার বাচ্চাগুলা সারাদিন কাঁদে। ওদের মাকে বাঁচাতে পারলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।”
এ ঘটনায় পরিবারটি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে জরুরি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তিনটি শিশুর মাথার ওপর থেকে মায়ের ছায়া চিরতরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনই সহায়তার হাত বাড়ানো না হলে একটি পরিবার চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে- এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
যোগাযোগ গৃহবধূ আছমার স্বামী মো.আলম আকন্দ
মোবাইল নং ০১৩৪৬৩১০৭২৯