মোঃ রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : কৃষি নির্ভর এদেশে কৃষি পণ্য উৎপাদনে অপর সম্ভাবনাময় এক জেলার নাম সাতক্ষীরা। খেটে খাওয়া, হাড় খাটুনি খাটা কৃষকরা জেলায় কৃষি ক্ষেত্রে সফল আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে। জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। জাতীয়, আন্তর্জাতিক পরিধিতিতে সাতক্ষীরাকে সমধিক পরিচিতি লাভ করিয়েছে কৃষি পণ্যের মাধ্যমে। এখানকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য ধান, পান, আম, ওল, খিরাই, বরই, চিংড়ি জাতীয় মাছ সহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল জেলার ভৌগলিকত্ব পেরিয়ে জাতীয় আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম অর্জন করেছে। গুনে মানে অনন্য এসব পণ্যের চাহিদা ও কদর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই সাতক্ষীরার কৃষি, কৃষি পণ্য, নিয়ে ভাববার সময় এসেছে অভিজ্ঞ মহলে। শস্য উৎপাদনের রতœভা-ার নামে খ্যাত সাতক্ষীরার সুউর্বর ভূমি যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা ও চাষাবাদ মার্জিত পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন, একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সাথে মৌসুম অনুসারে শস্য পণ্যের শ্রেণীবিন্যাস করে একই জমিতে একাধিক ও অধিক ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে অপর সম্ভাবনাময় এ জেলার কৃষি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির দুয়ার প্রশস্ততার মধ্য দিয়ে কৃষি ক্ষেত্র সমসাময়িক সময়ে স্বর্ণাসীনে সমাসীন হবে। চলমান বোরো মৌসুমে ফসল সংগ্রহের সময় আসছে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন উৎপাদন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফসলের শ্রেণীবিন্যাস ও ফসলের মৌসুম অনুযায়ী বোরোর পরে দ্বিতীয় ব্লকের চাষাবাদ শুরু হবে। শস্য পণ্যের উৎপাদন পথ সুপ্রশস্ততার জন্য প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও পরিকল্পিত চাষাবাদ জরুরি। এজন্য কৃষক সমাজকে কৃষি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সচেতন ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দানে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগকে।কৃষি ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলার উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে। কৃষক ও কৃষিক্ষেত্রকে একটি সার্বজনীন বৃত্তের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় ব্লকের ধান চাষে কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন তার মধ্য পানির সংকট অন্যতম। এছাড়া শ্রমিক, সার, বিষ অন্যান্য খরচ লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে অনেক চাষি এ মৌসুমে ধান চাষ অনীহা প্রকাশ করে। কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রাষ্ট্র প্রচলিত ব্যবস্থায় কৃষি পণ্যে সর্বনি¤œ সহায়ক দাম নির্ধারণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে কৃষক ও কৃষি দুটাই বাঁচবে। আমন মৌসুমে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে বদ্ধ পানিতে ধান চারা ও ধান গাছ এ জাতীয় ফসল পচে যায়। এজন্য দ্বিতীয় ব্লককে ধান চাষের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ ও ধান চাষে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।পাশাপাশি ধান চাষের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব জমি ও সরকারি খাস জমিতে পুকুর বা জলাশয় খনন ও গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে জমিতে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার সুযোগ করে দিতে হবে। এবং দ্বিতীয় ব্লক পার্বতী সময়ে আমন মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। সোনালী আঁশ নামে পরিচিত পাট অনন্য অর্থকরী ফসল এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় অর্থনীতিতে পাট অতীত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।অন্যান্য ফসলের থেকে পাটের উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় পাট বেশ লাভজনক ফসল। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার কৃষি ব্যবস্থাপনায় এক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে কৃষক ও কৃষি ক্ষেত্র উৎপাদনের সোনালী দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে। সকল প্রতিকূল পরিবেশের দুরবস্থা দূরীভূত করে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকের মুখে হাসি ফুটানোই হোক আমাদের মূল প্রত্যাশা।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
দ্বিতীয় ব্লকে ধান চাষের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পিত চাষাবাদ জরুরি
কৃষি নির্ভর এদেশে কৃষি পণ্য উৎপাদনে অপর সম্ভাবনাময় এক জেলার নাম সাতক্ষীরা। খেটে খাওয়া, হাড় খাটুনি খাটা কৃষকরা জেলায় কৃষি ক্ষেত্রে সফল আলোর দ্যুতি ছড়াচ্ছে। জেলার কৃষি ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে।