সুন্দরবনে বেড়াতে এসে খুলনার দাকোপ এলাকা থেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহ্নত ইকো রিসোর্ট মালিকসহ ৩ পর্যটককে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা এলাকা থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছয়জন বনদস্যুকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের ছেলে শান্তনু বাছাড় বাদি হয়ে রোববার দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বনদস্যুদের নাম উল্লেখসহ ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার সুন্দরবন সংলগ্ন কেনুর খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃত দুই পর্যটক হলেন মো. সোহেল ও জনি। তারা ঢাকার বাসিন্দা। সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কানন’র মালিক শ্রীপতি বাছাড়।

স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার নারী-পুরুষসহ চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কানন-এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেলে গোল কানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন। রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল থেকে নারীসহ ৫ জনকে তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা ২০ লাখ মুক্তিপন দাবি করেছে বলে জানা যায়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে পাঁচ পর্যটক, এক মাঝি ও রিসোর্ট মালিকসহ সাত জনকে মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল ধরে নিয়ে জিম্মি করে। ডাকাত দল তিন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপন দাবি করে। পরে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানায়। কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অভিযান চলাকালীন গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসানকে (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, পরে রোববার সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তাদের লেনদেন অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল- হক আরও বলেন, উদ্ধার পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটক করা ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এ ব্যাপারে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই অপহ্নতদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ এবং আমাদের পক্ষ থেকে সমন্বিত জোর অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা এলাকা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।