তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষরা। তবে সকাল থেকে রোদ থাকায় মানুষের শীত কিছুটা কম অনুভূতি হচ্ছে।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পর্যটন উপজেলা শ্রীমঙ্গলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে হাওর ও চা বাগান এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা ঠাণ্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১ জানুয়ারি সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ১২.২ ডিগ্রি, ৪ জানুয়ারি ৯.৫ ডিগ্রি, ৫ জানুয়ারি ১২.৫ ডিগ্রি ও ৬ জানুয়ারি ১৪.৫ ডিজিটাল রেকর্ড করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম বলেন, শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই প্রতিদিন। বেশি ভাগই শিশু ও বৃদ্ধরা।
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঠান্ডায় কাবু এই জনপদের বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৭ ডিগ্রি সে.। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। কনকনে শীতের সঙ্গে জেলাজুড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এর আগে গত বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এদিকে গেল কদিন মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস আর দুপুর অবধি সূর্যের দেখা না মিলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। বয়ে চলা তীব্র ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে হাওর এলাকার বোরো চাষি ও চা শ্রমিকেরা। ঠান্ডা থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকেই খড়কুটা জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। শীতে গৃহপালিত পশুগুলোও চরম দুর্ভোগ পড়েছে। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমতে থাকায় সকাল থেকে কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চা শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে। শীতজনিত রোগবালাইও বেড়ে চলেছে। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীদের। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।