রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন। অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। রোববার ভোররাত থেকে সারাদিন রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার আমিনপুর ও ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চরে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনীর ৬৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান। তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, ৬৭ জনের মধ্যে ৫৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে রাজশাহী রেঞ্জের রাজশাহী, পাবনা ও নাটোর জেলার চরাঞ্চলে। অন্য নয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে খুলনা রেঞ্জের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে। এরা কাকন বাহিনীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। এ অভিযানকালে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি গুলি, দুটি গুলির খোসা, ২৪টি হাসুয়া, ছয়টি ডেগার, দুটি ছোরা, চারটি চাকু, তিনটি রামদা, দুটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চর থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, একটি স্পিড বোড, দুটি তাবু ও পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ডিআইজি বলেন, ওই চরে মোট ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। রোববার ভোরে তাদের দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিমের ১ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নেন। এছাড়া র‌্যাব ও এপিবিএনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন। ঘটনার পর বাহিনীপ্রধান হাসিনুজ্জামান কাকনসহ সদস্যদের নামে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।