বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ওপর ইহুদীরা বর্বর হামলা চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্গন করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের অপরাপর পরাশক্তিরাও নিশ্চুপ। এ যেন মুসলিম নিধন বা হত্যাযজ্ঞের সমর্থন দিচ্ছে। জায়নবাদী ইসরায়েল এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যৌথভাবে মুসলিম বিশ্বের ওপর যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামী এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে যে হামলা ও হত্যাকা- চালানো হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা সকল শহীদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম কামনা করছি। আমরা একজন মুসলিম বেঁচে থাকলেও তাদের হামলার প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। যায়নবাদি ইহুদি-খ্রিস্টানদের বর্বরতা বন্ধ করতে কোরআনের বিজয় অপরিহার্য।

গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় চন্দনপুরাস্থ সাফা আর্কেড হলরুমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার জামায়াতের উদ্যোগে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আমীর জননেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভুইয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবছার উদ্দীন চৌধুরী, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ, ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, মানবিক চিকিৎসক ডাঃ ফরিদুল আলম, ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতি মুহাম্মদ ইমরান ইসলামাবাদী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি ডিএম আসহাব উদ্দীন, পশ্চিম জেলার সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন, জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মুহাম্মদ জাকারিয়া, এডভোকেট আবু নাছের, সাংগঠনিক সেক্রেটারী মাওলানা নুরুল হোসাইন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, কামাল উদ্দীন, নুরুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, মাওলানা আরেফে জামী, মাওলানা আরিফুর রশীদ, আ ক ম ফরিদুল আলম প্রমুখ জেলা রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, সারাদেশে সরকারী দলের রেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা চালাচ্ছে। পরাজিত দলের পক্ষ থেকে সহিংসতা অতীতে চোখে পড়লেও আমরা দেশের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে তা মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। অথচ বিজয়ী দল প্রতিপক্ষ দলের কর্মীদের উপর যেভাবে নগ্ন হামলা চালাচ্ছে তাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একশ্রেণীর সুবিধাবাদীরা উঠে পড়ে লেগেছে। অবিলম্বে এসব দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলতে চাই, দেশব্যাপী চলমান নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত বিপ্লবের পর একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ঐক্যবদ্ধ জাতি একটি সুন্দর ও সফলৃএকটি বিরোধী দল দেশ বিনির্মাণে সক্ষম হতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জাতির ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। জাতিকে বিভক্তির জন্য দেশবিরোধী আধিপত্যবাদী শক্তি একের পর এক নীলনকশা বাস্তবায়নে তৎপর। জামায়াতে ইসলামী অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করে দেশকে এবং দেশের মানুষের জন্য মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। রাজনীতিতে সহনশীলতা এবং একে অপরকে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা আল্লাহ্কে ভয় করে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিকসহ সর্বস্তরের নেতৃত্বে মৌলিক এ গুণটি অর্জিত হলেই জনগণের আমানতদারিতা শতভাগ রক্ষিত হবে।

তিনি আরও বলেন, মাহে রমজান থেকে আমরা নিজের জীবন গড়ার শপথ নিবো, সেই সাথে নবনির্বাচিত সরকার ও বিরোধীদল মিলে নতুন বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য এই রমজান থেকে শপথ নিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দেড়যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর শান্তিতে দ্বিতীয় রমজান পালন করছি। রমজান শুরুর প্রাক্কালেই গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। সরকারি দল ও বিরোধীদলের সম্মিলিত প্রয়াসে নতুনভাবে রচিত হোক বাংলাদেশের ইতিহাস-সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেট সত্ত্বেও জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দিতে যে জটিলতার সৃষ্টি করা হয়েছে তার অবসান হোক, জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের সরকারি দল সহ সকল সংসদ সদস্য মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে চট্টগ্রামকে সাজাতে চাই। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আগামীতে চট্টগ্রামকে বিশ্বের রোল মডেল বানাতে চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশবিদ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রোজার ডকট্রিন অব নেসিসিটি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য ডকট্রিন অব নেসিসিটি মেনে চলার আহবান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, প্রায় প্রতি বছর রমজান মাসে ইয়াহুদীবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনের উপর হামলা চালাতো। আজ ইরানের মুসলমানদের উপর নতুন করে হামলা চালিয়ে অকুতোভয় নেতৃত্ব ইমাম আলী খোমেনি ও আহমেদিজাদকে হত্যা করে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা আমীর বলেন, রমজান মাস মূলত আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা আমাদের জীবন, চিন্তা এবং প্রবৃত্তিকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও রহমত দিয়ে জীবনকে সাজাতে পারি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে রবের পূর্ণ আনুগত্য করার আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম দেশের উন্নয়নের প্রবেশ দ্বার। চট্টগ্রামের মানউন্নয়নে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস আশা করছি। সিন্ডিকেট করে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে ব্যবসা বানিজ্যে কল্যাণ নেই। সৎ ও নৈতিক ব্যবসায়ীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত পেয়ে থাকেন। আর চাঁদাবাজ- সন্ত্রাসীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার জন্য চট্টগ্রামের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। শান্তি ও উন্নয়নের নগরীতে গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান।