চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনবিআর, কাস্টমস ও বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘ পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ বা ‘সিপিএ স্কাই’ চালু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল সেবার উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছিল এবং এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট পুরো টিমকে সময়মতো জটিল এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ বন্দর ইতোমধ্যে ডিজিটাল ও অটোমেটেড ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু লজিস্টিক খাতে ডিজিটাল করিডোরে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এতদিন পিছিয়ে ছিল। যদিও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম ও এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম চালু ছিল, তবে কার্যকর পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা ছিল না।
চেয়ারম্যান জানান, দেশের জন্য একটি জাতীয় সিঙ্গেল উইন্ডো চালুর কাজ করছে এনবিআর এবং মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন করছে ডিজি শিপিং। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, সেটি মূলত একটি পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, যেখানে বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগে বন্দরের নানা কাজ করতে হলে ব্যবহারকারীদের কাস্টমস, ব্যাংক কিংবা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের অফিসে সরাসরি যেতে হতো। এখন এসব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। ফলে আগে যেখানে একটি কাজ শেষ করতে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগত, সেখানে এখন আধা ঘণ্টার মধ্যেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে পণ্য খালাস, কার্গো পরিবহন এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বন্দরের কার্যক্রম পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রীন পোর্ট’ হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে সরাসরি যুক্ত হলো চট্টগ্রাম বন্দর। কাস্টমসের ইজিএম ও আইজিএমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এবং প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। আগে আমদানিকৃত পণ্য দেশে পৌঁছানোর পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো, কিন্তু এখন লোড পোর্ট থেকেই অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করা যাবে। ফলে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
চেয়ারম্যান জানান, ধাপে ধাপে বন্দরের সব অফিসিয়াল কার্যক্রম পেপারলেস করা হবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে বিলম্ব ও ভোগান্তি কমে আসবে। এতে বন্দরের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের সহায়তায় পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর জন্য হেল্প ডেস্ক ও এজেন্ট ডেস্ক চালু করা হবে। এই সেবা ব্যবহারে ন্যূনতম ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মকে তিনি বাস্তবমুখী, যুগান্তকারী এবং ব্যবহারবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।