মো. জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার : পৌষের কনকনে শীত আর সবুজ প্রকৃতির হাতছানিতে পর্যটকের পদচারণায় সরব হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। কুয়াশা মোড়া সকাল, পাহাড়-টিলা আর বিস্তীর্ণ চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন চায়ের রাজ্য খ্যাত এই জেলায়।

প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ে। চলতি মৌসুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে আসা পর্যটকদের আনাগমনে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, মাধবকু- জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, বধ্যভূমি এবং শমশেরনগর গলফ মাঠে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকেরা। দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে।

পর্যটকেরা স্থানীয়ভাবে ‘চান্দের গাড়ি’ নামে পরিচিত জিপগাড়িতে করে এক পর্যটন কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শীতের সকালের কুয়াশা ভেদ করে বন, পাহাড় ও চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা।

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক এই উদ্যানে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে দেশীয় পর্যটকের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জানুয়ারি ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটক পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত দুই সপ্তাহ ধরে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত টহল, নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ টহল টিম মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শীত মৌসুমকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও অন্যান্য পর্যটনভিত্তিক ব্যবসা আশানুরূপ ভালো যাচ্ছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজারে পর্যটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।