আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেছেন, দুর্নীতি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, সমাজে এর একটি সুপ্ত চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা কমাতে পারলেই দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

তিনি মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা গড়বে আগামীর শুদ্ধতা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়।

নিজের পিএইচডি অধ্যয়নকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ব্রিটেনের ব্রুকলিনে সমাজনীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের সময় অপরাধ অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন—অপরাধ ও দুর্নীতি সমাজের চাহিদার ভিত্তিতেই টিকে থাকে। তাই নৈতিকতার শিক্ষা শক্তিশালী না হলে কোনো সমাজই দুর্নীতি মুক্ত হতে পারে না। ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, শিক্ষা এবং সমাজ সব জায়গায় নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় সন্তানদের জন্মসনদে বয়স কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। এখানে ছোট্ট একটি সুবিধা নিতে গিয়েই আমরা দুর্নীতির চাহিদাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি অফিসে দুর্নীতি বেশি হয়—এমন ধারণা প্রচলিত, কারণ সেখানে আর্থিক লাভ, ঝুঁকি বিবেচনা এবং উভয় পক্ষের লাভবান হওয়ার প্রবণতা কাজ করে। তাই দুর্নীতি মোকাবিলায় সবার আগে প্রয়োজন নিজস্ব নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরীফ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন গাজীপুর আঞ্চলিক সমন্বিত কার্যালয়ের নাজমুল হোসেন। সঞ্চালনা করেন মোঃ মুনীর মোল্লা।

পুলিশ সুপার মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এবং বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলে সমাজ থেকেও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।

উপ-পুলিশ কমিশনার জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, নিজেদের পরিবর্তন না হলে সমাজের কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত সততার চর্চাই বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোতাচ্ছেম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ শাহরিয়ার নজির, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সনাকের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যে কাজটি করছি তা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে কিনা—এটা সচেতনভাবে ভাবা উচিত। অন্যের অধিকার হরণ করাও এক ধরনের দুর্নীতি। তিনি জেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতির চাহিদা কমানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি শিশুদের মাঝে নৈতিক শিক্ষার চর্চা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমরা সবাই নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে হয়তো পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব না, তবে দুর্নীতি অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে দিবস উদযাপনের সূচনা হয়। পরে শোভাযাত্রা ও মানববন্ধনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।