লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল যুবদল সমর্থীত দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলীর ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া ও শেখপুর গ্রামের বিএনপি সমর্থিত যুবদল ও ছাত্রদলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৩ মার্চ) বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম ভাগ বিত-ার পর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক গ্রুপের পক্ষে নেতৃত্ব দেয় রাকিব পাটওয়ারী এবং অন্য গ্রুপের পক্ষে নেতৃত্ব দেয় মিতুল নামে একজন। রাকিবের লোকজন অস্ত্রসজ্জিত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাকিব ইতোপূর্বে হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি বলেও সূত্র জানিয়েছে।
গোলাগুলীর ঘটনায় আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক পথচারীর বাম পায়ে গুলীবিদ্ধ হন এবং মানিক নামে আরেকজনকে এলোপাতাড়িভাবে শিকল দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুলীবিদ্ধ আব্দুর রহিম শেখপুর গ্রামের শামছুল হকের পুত্র এবং পেশায় গাছ ব্যবসায়ী। আহত মানিক সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের পুত্র। গুলীবিদ্ধ আব্দুর রহিম বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। বিকেলে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন দিদারুল ইসলাম মেহেরাজ, আব্দুর রহমান আকাশ, সাজ্জাদ হোসেন রিফাত, আয়ান হোসেন মিলন, আরিফ হোসেন, হৃদয় হোসেন, মো. সাকিব ও মেহেরাজ হোসেন ইমন। তারা দেওপাড়া, লতিফপুর, পশ্চিম লতিফপুর ও পাঁচপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান যে ,গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহিম ঢাকা থেকে ফিরলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা রুজু করা হবে।