গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম জনচলাচলের কেন্দ্র জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই পুনরায় অবৈধ দখল ফিরে এসেছে। এতে করে উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।
সোমবার (৩০ মার্চ) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে রেলগেট ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় দখলদারিত্ব, হকার ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক,ষ মোঃ শওকত হোসেন সরকার। তিনি অভিযানস্থলে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করেন এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থান ত্যাগ করেন, ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব গ্রীন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি একদিনের কার্যক্রম নয়, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, উচ্ছেদের কিছু সময় পর থেকেই ধীরে ধীরে আবারও হকার ও ভাসমান দোকান বসতে শুরু করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পূর্বের চিত্র অনেকাংশে ফিরে আসে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানটি আমরা আগামী ২/১ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনা করব। গতকালের অভিযান আংশিক ছিল, পুরো এলাকা দখলমুক্ত করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম চলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলগেট গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত উন্নয়নসহ নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও পুনরায় দখলের ঘটনায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি, ‘শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে হলে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকা সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। জয়দেবপুর রেলগেট, যা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরবাসীর দুর্ভোগের প্রতীক ছিল, সেটিকে দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে-উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় দখলের এই চিত্র এখন সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।