গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শওকত হোসেন সরকার। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও স্থানীয় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই নগরজুড়ে এ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, চলমান উন্নয়নকাজে গতি আনা এবং নাগরিক সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
নতুন প্রশাসক গাজীপুর মহানগর বিএনপি-র সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন সরকারের সন্তান। পারিবারিকভাবেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগপর্যন্ত তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার একই ইউনিয়নে প্রায় এক দশক চেয়ারম্যান ছিলেন। এরও আগে তাঁর দাদা জবেদ আলী সরকার এবং চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার পৃথক সময়ে দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় প্রজন্মজুড়ে এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর মতে, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, এলাকাভিত্তিক সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা এবং নগরবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই তাঁকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিয়োগের পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে শওকত হোসেন সরকার বলেন, 'এই দায়িত্ব আমার জন্য বড় সম্মান, একই সঙ্গে বড় দায়িত্ব। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার কাছে দোয়া চাই-আমি যেন গাজীপুর সিটির মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি।'
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চলমান প্রকল্পগুলোতে গতি আসবে এবং নাগরিক সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভূত হবে।