রংপুর অফিস ও তারাগঞ্জ সংবাদদাতা : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার চাঞ্চল্যকর অবসরপ্রাপ্ত প্রবীন প্রধান শিক্ষক দম্পতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় হত্যার অভিযোগে টাইলস শ্রমিক মোরছালিন ইসলাম (২২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবু সাইয়ুম তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, প্রবীণ প্রধান শিক্ষক দম্পতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যার দু’দিন পূর্বে মোরছালিন শিক্ষকের বাড়িতে টাইলস লাগানোর কাজ করেছিলেন। তার চলাফেরা এব কথায় পুলিশের সন্দেহ হলে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পুলিশ আটক মোরছালিন ইসলামকে নিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে। তবে মোরছালিনের পিতা রুহুল আমীন তার পুত্রের এই হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বিকার করেছে। উল্লেখ্য, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ প্রধান শিক্ষক দম্পতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০) গত ৬ই ডিসেম্বর শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে রহস্যজনকভাবে স্বস্ত্রীক নিজ বাড়ীতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে নিহত দম্পতির বড় পুত্র শোভন চন্দ্র রায় অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের দায়ী করে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ মোরছালিন ইসলামকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনের ন্যয় এই শিক্ষক দম্পতি ঐ রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। ভোরবেলা প্রতিবেশীরা তাদের ডাকাডাডকি করে কোন সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশী দিপক মই বেয়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি রান্না ঘরে সুবর্ণা রায় এবং ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের গলাকাটা অবস্থায় মৃতদেহ দেখতে পান এবং চিৎকার করে প্রতিবেশীদের খবর দেন। এলাকাবাসী জানিয়েছে নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় উপজেলার রহিমাপুর নয়াহাট বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এই শিক্ষক দম্পতি বাড়িতে একাকী জীবন কাটাতেন। তাঁদের দুই পুত্র সন্তান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে কর্মীরত রয়েছেন। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চ্যল্যের সৃষ্টি হয়ে তাঁদের সতীর্থরা ছুটে আসেন। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ নিবির তদন্ত শুরু করেছে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এবং রংপুর-২ বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এটিএম আজাহারুল ইসলাম উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামে নিহত শিক্ষক দম্পতির বাড়িতে ছুটে যান। এসময় তিনি সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানান। জনাব আজাহার বিষয়টি কোন ষড়যন্ত্র কিনা প্রশাসনকে তা খতিয়ে দেখতে বলেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।