দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। সরকারিভাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারসাজিতে তারা পাচ্ছেন মাত্র ১২ হাজার টাকা। তার ওপর গত ৮ মাস ধরে সেই বেতনও বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই কর্মচারীরা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, মেসার্স মিথিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শহিদনগর ট্রমা সেন্টার এবং দোনারচর ২০ শয্যা হাসপাতালে মোট ২৫ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, আয়া, মালি, দারোয়ান ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের হাতে ১২ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। বেতনের আগেই কর্মীদের কাছ থেকে চেক বইয়ের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয় এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।টানা ৮ মাস বেতন না পাওয়ায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সামনে রোজা, অথচ ঘরে খাবার নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হোসনেয়ারা আক্ষেপ করে বলেন, “যে হাতে মানুষের ময়লা পরিষ্কার করি, সেই হাতেই ভাত খাই। অথচ ৮ মাস বেতন পাই না। ছেলে-মেয়ের স্কুল-কলেজের খরচ তো দূরের কথা, দুমুঠো ভাত জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।” বাবুর্চির সহকারী ফরিদা বলেন, “মাসের পর মাস কাজ করছি, কিন্তু বেতন পাই না।

সামনে রোজা, ছেলেদের নিয়ে কীভাবে চলব সেই চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছি।”এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ আসুক বা না আসুক, ঠিকাদারের প্রতি মাসে বেতন পরিশোধ করার কথা।অন্যদিকে, ঠিকাদার মো. রনি মিয়া বেতন বকেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে বিল পাস না হওয়ায় বেতন দেওয়া যাচ্ছে না।” ১৬ হাজারের স্থলে ১২ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বেতন পাস করাতে বিভিন্ন ‘অফিস খরচ’ আছে, তাই টাকা কম দেওয়া হয়।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ জানান, প্রতিটি কর্মচারীর বেতন ১৬ হাজার টাকাই হওয়ার কথা। কম দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।