গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সম্মিলিত প্রচারণায় নামছে নির্বাচিত পাঁচটি ছাত্রসংসদের প্রতিনিধিরা। আজ বৃহস্পতিবার সিলেটে বিভাগীয় গণজমায়েতের মধ্য দিয়ে তারা প্রচারণা শুরু করবেন।

গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটায় ডাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করার লক্ষ্যে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ একত্রিত হয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সিলেটের বন্দর বাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে বলে তিনি জানান। সবার উদ্যোগে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষক, ডাক্তার, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে গোলামি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। তিনি আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্ব গণভোট নিয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করছে না। কিছু রাজনৈতিক দলের প্রধান ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তৃতা দিলেও গণভোটের পক্ষে বা রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা জনগণ পাচ্ছে না।

সাদিক কায়েম বলেন, আমরা চাই এমন বাংলাদেশ যেখানে কেউ বারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে না, বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করার সুযোগ পাবেনা, ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে ফ্যাসিবাদী রীতির পথ বন্ধ থাকবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, এক বুক ভরা আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা ২৪ জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যেভাবে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। একজন নাগরিক হিসেবে দেশের সর্বক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে এবং দেশ বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে, এই প্রত্যাশাই আমাদের প্রেরণা ছিল।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এসেছে, যা বিগত ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেয় এবং ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল এসব সংস্কার প্রস্তাবনায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করার মাধ্যমে পুরোনো ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো বিলোপ করা এবং ভবিষ্যতে কেউ ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী আচরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসু জিএস সাইদ বিন হাবিব, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম, রাকসু জিএস সালমান সাব্বিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।