স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
সোনালী রঙের ধান, কিন্তু ভেতরে কালো রঙের চাল-ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যের এই নতুন জাত ব্রি ধান-১১৫ মানবদেহের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। বহু ঔষধি গুণসম্পন্ন চালটি ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী হবে বলে গবেষণা সূত্রে জানা গেছে। ভিটামিন-ই বা টোকোফেরলে সমৃদ্ধ চালটি শীঘ্রই অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
ব্রি'র পরিচালক (গবেষণা) ও এগ্রোমেট ল্যাবরেটরি চিফ ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বোরো মৌসুম উপযোগী এই ধানের গাছ সোনালী রঙের হলেও চাল সম্পূর্ণ কালো, যা ভিটামিন–ই সমৃদ্ধ। টোকোফেরল হলো চর্বিতে দ্রবণীয় শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে মুক্ত র্যাডিকেলজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন-ই-এর ঘাটতিতে পেশী দুর্বলতা, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, অসাড়তা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব চাহিদা পূরণে ব্রি নিয়ে আসছে ব্রি ধান-১১৫, যাতে ভিটামিন-ই-এর পরিমাণ রয়েছে কেজিপ্রতি ১৫ মিলিগ্রাম। এই জাতের জীবনকাল ১৪০ দিন, গাছের উচ্চতা ১০৭ সেমি, অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ, দানা মধ্যম সরু আকৃতির। ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৪ টন এবং উন্নত ব্যবস্থাপনায় ৮.৬ টন পর্যন্ত হতে পারে।
চালটির ঔষধি গুণ, কালো বর্ণ, ডায়াবেটিস রোগী বান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সক্ষমতা নতুন এই জাতটিকে কৃষি গবেষণায় এক অনন্য সম্ভাবনায় পরিণত করেছে।