লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকায় সংখ্যালঘুদের দুটি বাড়ির সাতটি ঘরে রাতের আঁধারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘরের কিছু মালামাল পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন বাজার সংলগ্ন দেওপাড়া গ্রামের কামারবাড়ি ও হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড় বল্লভপুর গ্রামের ঠাকুরবাড়ির বিধান ঠাকুরের ঘরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চন্দ্রগঞ্জ বাজার সংলগ্ন দেওপাড়া গ্রামের কর্মকার বাড়ির চন্দন কর্মকার, রাখাল কর্মকার, শংকর কর্মকার, খোকন কর্মকার ও দিলীপ কর্মকারের ঘরের বাইরে থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কলাপসিবল গেইটের ভিতরে থাকা পাপোশ ও অন্যান্য জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে পানি ঢেলে আগুন নিভিয়ে ফেলে।

পরদিন, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে একই থানার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড়লবপুর গ্রামের ঠাকুরবাড়ির বিধান ঠাকুরের ঘরের ভিতরে এবং সামনের লাকড়ীর স্তুপে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানো হয়। ঘরের লোকজন চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এসব অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অপরাধীদের ধরার জন্য তৎপর রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডক্টর রেজাউল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তারা এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।