পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি বাজার তদারকিতে নেমেছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার। রোববার সকালে তিনি গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর বাজার পরিদর্শন করে বিভিন্ন দোকান ও মার্কেট ঘুরে দ্রব্যমূল্য যাচাই করেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।

বাজার পরিদর্শনের সময় প্রশাসক বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ পরীক্ষা করে দেখেন। এ সময় তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে যাতে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে।

তিনি বলেন, 'আমরা চাই রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন স্বস্তিতে নিত্যপণ্য কিনতে পারে। সার্বিকভাবে বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের পণ্যের ক্রয়মূল্যের রশিদ দেখাতে পারেননি। তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ায় বা অনিয়ম করে, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। রমজানের মতো সংযমের মাসে অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা পরিহার করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

এ সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান প্রশাসকের সঙ্গে বাজার পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, বাজারে মূল্যতালিকা টানানো, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং ভোক্তাদের সঙ্গে স্বচ্ছ আচরণ নিশ্চিত করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এসব নির্দেশনা অমান্য করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজার পরিদর্শনের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। এ সময় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীও প্রশাসকের সঙ্গে বাজার তদারকি কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজানজুড়ে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।