মোল্লা আব্দুস সাত্তার, কেশবপুর (যশোর) : ৮শ’ বছরের পুরনো কেশবপুরের কপোতাক্ষের তীরে সরসকাটি গ্রামের মথুরা রায় সান্ডুলির জমিদার বাড়ি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অযত্নে অবহেলায় এর অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। বাড়িটি পূরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসি জানায়, ১৭৫৭ সালের পর ইংরেজ শাসনামলে জমিদারী প্রথা চালু হলে কেশবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সরসকাটি এলাকার জমিদার মথুরা রায় সান্ডুলি তার কাছারী বাড়ি হিসেবে ৮ কক্ষের ভবনটি নির্মাণ করেন। সেসময় এখান বসে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রজাদের কাছ থেকে কর-খাজনা আদায় করা হতো। যেসব জমিদাররা খাজনা আদায় করতেন তাদের মধ্যে মধ্যে সরসকাটির মথুরা রায় সান্ডুলির জমিদার বাড়িটি অন্যতম। তবে কত সালে বাড়িটি তৈরি হয় তা জানা যায়নি। চুন-শুরকির নির্মিত বাড়িটির নির্মাণ শৈলী মুঘল সম্রাজ্যে স্মৃতি বহন করে বলে প্রততত্ত্ব বিধগণের ধারণা। বাড়িটির সামনের বারান্দার দুই পাশ দিয়ে ওঠা-নামার সিঁড়ি আজও বিদ্যমান। বাড়িটির বারান্দায় এক মিটার পুরু ১২টি পিলারের উপরে মিনার আকৃতির। যা খোলা প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দীর্ঘ দিনেও এ পুরাকীর্তি পুনঃসংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জমিদার মথুরা রায় সান্ডুলির শেষ বংশধরের ৩ একর সম্পত্তিসহ দুই সহদর ছিল। তারা হলেন, সতিস রায় সান্ডুলি ও মতি রায় সান্ডুলি। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় এ বাড়িসহ সকল সম্পত্তি অন্যের দখলে চলে যায়। এরমধ্যে সতিস রায় সান্ডুলির জমি সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদেরের ও মতি রায় সান্ডুলির জমি এলাকার রাজ আলী গাজী, আহাদ গাজী, এরশাদ গাজী, আকছেদ গাজী ও আকবর আলী গাজীর দখলে চলে যায়। তবে জমিদার মথুরা রায় সান্ডুলির ওয়ারেশ দাবি করে যশোরের বাসিন্দা বাসু রায় সান্ডুলি যশোর আমলী আদালতে একটি মামলা করেছেন। যা আদালতে বিচারাধীন থাকায় জমিদার বাড়িটির ভগ্নাবশেষ আজও অখ্যাত রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূরাকীর্তির একতলা ভবনটি ৮ কক্ষ বিশিষ্ট। যার ছাদে উঠতে মাঝখান দিয়ে সীঁড়ি ঘর ব্যবহার করা হতো। এর ছাদ লোহার কড়ে-বর্গায় নির্মিত। আবর্জনায় ভরা পুরাকীর্তিটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জ্বরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চুন শুরকির গাথুনির ভবনটি ভিন্ন রঙ ধারণ করে আজও দন্ডায়মান। বাংলাদেশ প্রততত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি হিসেবে জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণ করে এর পুনঃসংস্কার করলে এ বাড়িটি হতে পারে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।