খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, জনগণের পাশে থেকে তাদের সমস্যা জানার চেষ্টা এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করবেন তিনি। নতুন প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনাকে নতুন করে সাজানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব পালনে আমি জনগণের সহযোগিতা চাই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করবো আপনাদের কল্যাণে। কারো প্রতি বিরাগ বা প্রতিহিংসা নিয়ে নয়, সবাই সমান নাগরিক সেবা পাবেন ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, খুলনা সিটি কর্পোরেশন হবে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান। অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে যেমন অবৈধ অর্থ আয় করবেন না, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সৎভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেবেন।

মঞ্জু বলেন, সব উন্নয়নমূলক কাজ হবে টেকসই ও স্বচ্ছভাবে, কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য সহ্য করা হবে না। মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন তিনি।

রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসকের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং বিদায়ী প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ-এর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। অনুষ্ঠানে খুলনার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই সিটি কর্পোরেশনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা তার প্রধান দায়িত্ব। নাগরিকদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা, সমস্যা সমাধান এবং বাধাহীন সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন তিনি।

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর গড়ে তোলা, পরিকল্পিত পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং মশামুক্ত নিরাপদ খুলনা নির্মাণ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন।

উন্মুক্ত আবর্জনা ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্মুক্ত আবর্জনা থাকবে না। এটি প্যাকেট করতে হবে। রিসাইকেলিং করে সারে রূপ দিতে হবে এবং তার জন্য তিনি অর্থ আনবেন বলে জানিয়েছেন। শহরের যতো আবর্জনার স্তূপ সেগুলোকে প্যাকেট করে ঢেকে রাখতে হবে। খোলা রেখে মানুষের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে এমন কাজ আমরা করব না ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষকে বলবেন নাগরিক দায়িত্বটা যেন পালন করে। সকলের দায়িত্ব আছে। এই কাজগুলোর মধ্যে কিছু কিছু কাজ নাগরিকদের। সেই কাজটি তারা করবেন।

এদিকে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য করতে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়। সীমিত সংখ্যক কার্ডধারী আমন্ত্রিত অতিথির অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বিপুল সংখ্যক নগরবাসী ও দলীয় নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। নগর ভবনের সর্বত্র ছিল লোকেলোকারণ্য। তিল ধারণের ঠাই ছিল না কোথাও।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের ৬ সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। খুলনা সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব লাভ করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, খুলনা মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি ও খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। দলীয় কোন্দল, বিভেদ, অন্তর্দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে তিনি হেরেছেন বলে মনে করা হয়।