রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে (৪৪) হত্যার নির্দেশ দেন দীলিপ ওরফে বিনাশ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী। দেশের বাইরে থেকে তিনি এ নির্দেশ দেন। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের কারণেই মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকা-ের ঘটনার অন্যতম শুটার রহিমকে শুক্রবার ভোরে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করার পরেই এ তথ্য বেরিয়ে আসে। যেখানে রহিম এবং জিন্নাত নামে দুইজন কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকার মত কারওয়ান বাজারও আওয়ামী লীগের দখলদারিত্বের অবসান ঘটে। এরপরেই সেখানে বিএনপির একাধিক গ্রুপ দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। চাঁদার ভাগ বাটোয়ারা এবং দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক মাস ধরেই কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে আভাস দেওয়া হয়। চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে যেখানে পুলিশ অন্তত ১১ জনকে গ্রেফতার করে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তদন্তে হত্যার পেছনে এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির ঘটনার প্রমাণ মিলেছে। এরই মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন শুটার জিন্নাত। যাকে ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় এ নিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হল বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর আগে ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যার ঘটনার মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকি করা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, মুছাব্বিরকে গুলি করেন দুজন। এর মধ্যে একজন জিন্নাত, আরেকজন রহিম। জিন্নাতকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দুজন টাকার বিনিময়ে গুলি করেছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁদের দেখা গেছে। হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

১১ জানুয়ারি জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদের (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলাল নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। হত্যাকারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই।