নির্বাচনী প্রতিহিংসায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড়িয়া ভাদালিয়াপাড়ায় সামাজিক বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের অন্তত ২০টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। শনিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু ধারাল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হান্নান গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার (ইউপি সদস্য) সাইফুলের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
এর জের ধরে শনিবার রাতে বড়িয়া ভাদাদিয়াপাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর এক পর্যায়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এতে উভয় গ্রুপের অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ সময় ২০ টির অধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানায়, নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি শাহজাহান আলী হান্নান শেখের লোকজন জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা শতাধিক বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। রক্তাক্ত জখম করে বেশ কয়েকজনকে। এতে বিএনপি ও যুবদলের ক্যাডাররা সশস্ত্র হামলা চালায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিয়ার হান্নান মেম্বার ও ভাদালিয়া পাড়ার সাইফুল মেম্বারের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর জেরে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে একটি দেশীয় হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকা পুরুষ শূন্য হলেও তারা বিভিন্ন মাঠে ও ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে আছে বলে ধারণা করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের আগে জামায়াতের সদর আসনের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা বরিয়া মসজিদে আসর নামাজ বাদ মুসল্লীদের উদ্ধেশ্যে কিছু হেদায়েতী কথা বলছিলেন। এ সময় বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি শাহজাহান আলী হান্নান লাফ দিয়ে উঠে বলতে থাকেন, মসজিদে কোন রাজনৈতিক আলোচনা হবেনা।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম বিশৃংখলা বেঁধে যায়। ওই ঘটনার জেরে বেশ কিছুদিন সেখানে চরম দ্বন্দ্ব সংঘাত চলতে থাকে। পরে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সহযোগিতায় সেই সমস্যার সমাধান করেন। সে সময়ই বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন নির্বাচন বেরিয়ে যাক তারপরে দেখা হবে। ওই ঘটনার জের ধরেই এখন পর্যন্ত সেখানে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় সময় পার করছেন। প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন না করলে যে কোন মুহর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশংকা করছে এলাকাবাসী।