মুন্সীগঞ্জ থেকে মমিন বিশ্বাস : মুন্সীগঞ্জ পৌর শহর সহ মফস্বল শহরগুলোতে শব্দ দূষণের বড় উৎস হিসেবে যুক্ত হয়েছে অবৈধ পরিবর্তিত হর্নযুক্ত অটোরিকশা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কানে তালা লাগা শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অতিরিক্ত শব্দ আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে।

অনুমোদিত মানের হর্নের বদলে অনেক চালক তাদের অটোরিকশায় সংযোজন করছেন ট্রাক, বাস কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের মতো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হর্ন। ফলে সংকীর্ণ রাস্তা, স্কুলের সামনে, হাসপাতাল এলাকা ও আবাসিক মহল্লায় এই অটোরিকশাগুলোর কর্কশ শব্দ মুহূর্তেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের একাধিক এলাকায় দেখা গেছে, অযথা হর্ন বাজানো এখন বহু অটোরিকশা চালকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সামান্য যানজট, গলিপথে সামনে মানুষ চলাচল, এমনকি কোনো গাড়ি মোড় ঘুরতে একটু দেরি করলেই শুরু হয় হর্নের বিকট শব্দের প্রতিযোগিতা।

বিশিষ্ট নিউরো সার্জন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা মো সুজন শরীফের মতে, নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি শব্দে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বধিরতাও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা ও বিষণ্নতার মতো সমস্যাও বাড়ছে। ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ ও হাসপাতালের রোগীদের জন্য এই শব্দ আরও বেশি ক্ষতিকর।

একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, হঠাৎ করে খুব জোরে হর্ন বাজলে হৃদরোগী ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভয় পেয়ে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, অনেকের ক্ষেত্রে তা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা, স্কুল-কলেজের সামনের রাস্তা কিংবা কোচিং সেন্টারের ঘন এলাকা—সব জায়গাতেই অটোরিকশার হর্ন বড় এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।