গত বছরের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক গৃহিনীর বাসায় প্রবেশ করে তাদের মারধর, শ্লীলতাহানি ও বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির অভিযোগে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল ইসলাম রাসেলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর আসামীরা হলো-মোহাম্মদপুরের ছাত্রলীগ নেতা রাসেল (২৫), মো. ফয়সাল আলম সানি (২৫), আকাশ দেওয়ান (২৮), মো. হাসান (২৫), শামীম (৩০), মির্জা ইমন (২৬), মো. মোহন সরদার (৪৫), আসাদ(৩৩), দ্বীন ইসলাম(৩১), মো. পারভেজ আহমেদ (২৪), মো. অনিক (২৩) ও শেখ জসিম (২৬)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই আক্কাস আলী গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষ করে গত ৩০ এপ্রিল আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছি। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয়েছে সাতজনকে। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার বাদী বেবী (৫২) একজন গৃহিণী। বাদিনীর মেয়ে সুরাইয়া আক্তার শ্রাবণ ভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারী লোকজন এলাকায় আন্দোলন করতে থাকে। বাদিনীর ছেলে ও মেয়ে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় মোহাম্মদপুর থানার ছাত্রলীগ সভাপতি নাঈমুল ইসলাম রাসেলসহ তার লোকজন তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি দেখায়। গত বছরের ২১ জুলাই বাদিনীর মোহাম্মদপুর থানাধীন শেরশাহ শুরী রোডস্থ বাসায় আসামীরা এসে তাদের আন্দোলনে যোগদানের কারণ জানতে চায়। বাদিনী ও তার মেয়ে প্রতিবাদ করলে আসামীরা বাদিনী ও তার মেয়েকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারে শরীরে জখম করে। আসামীরা বাদিনী ও তার মেয়ের গায়ে হাত দিয়ে ও পরনের জামা কাপড় টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করে।

আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে বাদিনীর নাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে জখম করে। এরপর আসামীরা বাদিনী বাসার এসি, টিভিসহ দামি বিভিন্ন জিনিসপত্র লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া আসামীরা বাদিনীর বাসা থেকে স্বর্ণের আংটি, কানের দুল, চেইন,হাতের ব্রেসলেটসহ মোট দুই ভরি ওজনের স্বর্ণ যার দাম দুই লাখ টাকা ও নগদ দেড় লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বেবী বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা

দায়ের করেন।