ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদীর খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারের লক্ষ্যে ‘শহীদি শপথ’ পাঠ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে শপথ নেন তাঁরা। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসমান হাদীর বড় ভাই ওমর বিন হাদী, ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।
শপথপাঠ শেষে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদীকে নিয়ে দেয়াললিখন, তাঁর সংগ্রাম, লড়াইয়ের কথা নানা মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন। ২৬ ডিসেম্বরের কর্মসূচি পরে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান আল জাবের।
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ওসমান হাদী গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং ভারত বিরোধিতায় সরব হয়ে সারা দেশে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঢাক-৮ আসনে প্রার্থী হতে প্রচারও চালাচ্ছিলেন তিনি। ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগে নামার সময় তাঁকে গুলি করা হয়।
ওসমান হাদীর খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারেরর দাবিতে প্রতিদিনই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চ। তার ধারাবাহিকতায় আজ ছিল ‘শহীদি শপথ’ গ্রহণের কর্মসূচি। শপথবাক্যে বলা হয়, ‘শহীদ ওসমান হাদীর রক্তের শপথ, এই রক্ত বৃথা যেতে দেব না। যে হাত তাকে হত্যা করেছে, যে শক্তি এই হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, যে আধিপত্য এই দেশকে দাস বানাতে চায়, তার বিরুদ্ধে আমরা শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাব। এই বাংলার জমিনে যে আধিপত্যবাদ জেঁকে বসেছে, তা সমূলে উৎপাটন করব। ভয়, লোভ আর আপসের রাজনীতি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। কোনো ভয় ও লোভ আমাদেরকে এই লড়াই থেকে পিছপা হতে দেব না।
শপথে আরও বলা হয়, ‘আমরা শপথ করছি, শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। লড়াইয়ে থাকব, পিছু হটব না। এক চুলও নড়ব না। আমরা শপথ করছি, শহীদ ওসমান হাদীর স্বপ্নের ইনসাফভিত্তিক সার্বভৌম ও মর্যাদাশীল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ব। যেখানে শাসক জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। বিচার নিশ্চিত করবে। খুন, গুম, হত্যা বন্ধ করবে।’ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে শপথে বলা হয়, ‘শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের জন্য, ইনসাফ কায়েমের জন্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সংগ্রাম চলছে, আমাদের সংগ্রাম চলবে।’ শপথ পড়ার আগে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদীর প্রতি মানুষের যে দরদ, তা থেকে জনগণকে কখনো আলাদা করা যাবে না। শহীদ ওসমান হাদীকে কখনো বাংলাদেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। শহীদ ওসমান হাদীর যে লড়াই, আজ হোক কাল হোক, বাংলাদেশে এই লড়াই বাস্তবায়ন হবে ইনশা আল্লাহ।’