বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এবারের মওসুমে ৩৫ কোটি গাছে ১২ লাখ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ একে বাম্পার ফলন বলে উল্লেখ করছে। একদিকে নাবি জাতের গাছে ভরা মুকুল আর অন্যদিকে আগাম জাতের গাছে আমের কড়ালি। এই সময়ে রাজশাহী অঞ্চলে এ যেন এক মনোহর দৃশ্য রচনা করেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোট ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় ৩৫ কোটি আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৭১ শতাংশে মুকুল ধরেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার প্রায় ৭২ শতাংশ আম গাছে ইতোমধ্যেই মুকুল ধরেছে। নওগাঁ, নাটোর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিস্তৃত রাজশাহী অঞ্চলে ফুল ফোটার হার ৭১ শতাংশে পৌঁছেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বর্তমান স্থিতিশীল এবং অনুকূল আবহাওয়াকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন। ফল গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা মনে করেন, শীতকাল থেকে উষ্ণ তাপমাত্রায় মসৃণ পরিবর্তনই এর মূল কারণ। শীতের শেষের দিকে কোনো কুয়াশা ছিল না, বৃষ্টিপাত হয়নি এবং হঠাৎ ওঠানামা ছাড়াই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ফলে গাছগুলোতে ফুল ফোটার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান আবহাওয়া ফুল ফোটার জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। তারা বলেন, গত বছরে ফুল তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এবার কৃষিবিদরা কৃষকদেরকে তাদের বাগানে সঠিকভাবে সেচ দেয়ার এবং ফুল ফোটার পর অন্তত একবার ছত্রাকনাশক এবং কীটনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে ফুল ধরে রাখা যায়। গত মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদন প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪০ টন, নওগাঁয় ৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৯ টন, রাজশাহীতে ২ লাখ ৫০ হাজার টন এবং নাটোরে ৭২ হাজার টন পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ এ বছর আরো বেশি ফলনের আশা করছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, একই সাথে কৃষকরা যাতে আম রপ্তানি করতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। প্রতিটি উপজেলার এ বিষয়ে তারা কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদিও ছোট গাছগুলো ঘন মুকুলের ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে ফাল্গুন এখনো শেষ হয়নি এবং ঝড়ের কারণে ফুল নষ্ট হতে পারে। পুঠিয়া উপজেলার একজন বাগান মালিক বলেন, “তবুও গাছে মুকুলের সংখ্যা বিবেচনা করে আমরা এ বছর ভালো ফসলের আশা করছি।” এলাকায় ৩০ বিঘা বাগানের মালিক আরেকজন বলেন, “এ বছর মুকুলের ধরণ অভূতপূর্ব। সাধারণত, জাতের উপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে আম গাছে ফুল আসে। এ বছর প্রায় সব গাছেই প্রায় একই সময়ে ফুল ফুটেছে। গত বছরের তুলনায় মনে হচ্ছে তিনগুণ বেশি মুকুল ফুটেছে।”