নোয়াখালী সংবাদদাতা

নোয়াখালীতে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দলীয় স্লোগান ও দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় আওয়ামীলীগের পাঁচ কর্মীকে আটক করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় কাদির হানিফ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূল শ্লোগান ও দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানোর ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কার্যালয় দখলের পর নেতাকর্মীরা বর্তমান ২৬-এর জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে নবনির্বাচিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জানার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মোঃ সফিকুল ইসলাম নাজিম(৪৩), মোঃ কাউছার হামিদ(৩৮), মোঃ জিয়াউল রহমান রাসেল (৪৮), মোঃ আবু সাঈদ (৫৫), বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল (৪৯) কে আটক করা হয়। ঘটনার পর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আরেকটি তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকা আওয়ামীলীগের কার্যালয় খোলার ঘটনায় বুধবার বিকেল ৫ টায় জেলা শহর মাইজদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জুলাই ঐক্য সংগঠন, আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে একত্রিত হয়ে তারা কয়েক হাজার নেতা কর্মী বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

কুড়িগ্রামে আবারও ভাঙচুর হলো আওয়ামী লীগের কার্যালয়

কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ে স্লোগান দিয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে ভাঙচুর চালিয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। গত মঙ্গলবার ভোরে জেলা ছাত্রলীগের নেতা বাঁধন ও লুব্ধ’র নেতৃত্বে ৬–৭ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে ওই কার্যালয়ে এসে ব্যানার টাঙিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্লোগান দেন। এরপর তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ নাহিদের নেতৃত্বে একদল যুবক এসে কার্যালয়টি পুনরায় ভাঙচুর করেন।

এ বিষয়ে আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন, কয়েক দিন আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় আবার খোলা হবে। তারই অংশ হিসেবে আজ কুড়িগ্রামের কার্যালয়ে ব্যানার ও পতাকা টাঙানো হয়। আমরা আগেও এটি ভেঙে দিয়েছি। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা, বাংলাদেশে কোথাও আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন এ ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করেছে। এত বড় ঘোষণা শোনার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা বিষয়টি এসপিকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে ছাত্র-জনতা। এরপর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।