আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
জাতীয় নির্বাচনের আর বাকি ১৮ দিন। নির্বাচনী গাড়ি নিয়ে জোড় কদমে মাঠে নেমেছে প্রার্থী ও কর্মীরা। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও বিএনপির কাজী মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) ভোটারদের মন ছুতে ছুটছেন আবার মুরাদনগর উপজেলার গ্রাম ও গঞ্জে। কোম্পানীগঞ্জ থেকে দক্ষিণে ইলেটগঞ্জ, মুরাদনগর থেকে উত্তরে শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, পূর্বধৈইর পূর্ব, পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব পশ্চিম, টনকি, যাত্রাপুর, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও দক্ষিণ, নবীপুর পূর্ব পশ্চিম, কামাল্লা, মুরাদনগর, ধামঘর, জাহাপুর, দারোরা, ছালিয়াকান্দি, পাহারপুর ও বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন বিভিন্ন গ্রাম পাড়া মহল্লায় নির্বাচনি প্রচার প্রচারণা চলছে। নির্বাচন কমিশন থেকে সবশেষ সাত জন প্রার্থী মাঠে আছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রার্থী ও কর্মীরাদের মধ্যে যে উচ্ছাস দেখা গেছে তাতে মুরাদনগরে চূড়ান্ত লড়াই হবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও বিএনপির কায়কোবাদ এর সাথে। ধানের শীষের জয়ের পাল্লা যেমন ভারী হয়ে উঠেছে , তেমনি দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন! অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন- আমজনতার চৌধুরী রকিবুল হক, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি)’র মনিরুজ্জামান ও রিপাবলিকানের এমদাদুল হকসহ ৭ জন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। সামনে হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তা শঙ্কাহীন পদচারণাই তার বড় প্রমাণ। নির্বাচন কমিশন আগামীতে কারা ক্ষমতায় আসাছে সেদিকে না তাকিয়ে যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত যে ৭ জনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে জেলা নির্বাচন অফিস, সে আলোকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দও চূড়ান্ত করেছে। অন্য প্রার্থীরাও দলীয় পোস্টার লিফলেট নিয়ে পূর্ণ গণসংযোগ, পথসভা, সমাবেশ ও মিছিল করে গ্রাম থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। এজেন জমি চাষ নয়, আগামী দিনে সংসদের চেয়ারে বসার স্বপ্নকে সত্যে রূপ দিতে এক কঠিন লড়াই। যার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায়।
জোটে যারা আছেন তারা যার যার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে জয় করে ঘরে ফিরবেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে তারাই আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারির পর সরকার গঠন করবে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে জামায়াত যে অবদান রাখছে, নতুন করে দেশ গড়ার কথা গত মঙ্গলবার আবারও বলেছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান! তার প্রতিফলন ঘটতে পারে এবারের নির্বাচনে। কুমিল্লার মুরাদনগর, তথা দেশবাসী এমনটাই কামনা করছেন।
রাজনৈতিক গবেষক সৈয়দ আকরাম হোসেন খান বলেছেন, যেখানে জোয়ার, সেখানেই দাঁড়াচ্ছে দাঁড়িপাল্লা। তাই তারা শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে এটাই এখনকার বাস্তবতা।
এ প্রেক্ষাপটে বড় আলোচনার যেমন জম্ম দিয়েছে বিএনপি প্রার্থী, তেমনি দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ব্যাপক জনপ্রিয়তা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকার কঠিন প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, শহীদি তামান্না নিয়ে মগবাজার থেকে মনোনয়ন পেয়েছি, তেমনি জয়ের জন্য জীবন কুরবানী দিতেও প্রস্তুত আমাদের নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা , শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। আর এজন্য দাঁড়িয়ে আছি সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে। জয় ইনশাআল্লাহ হবে সত্যের, জনপ্রিয়তার, খোদাভীরু জনগণের।