চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আবাসিক এলাকার একটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে এস আলম গ্রুপের পরিবারের সদস্যদের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় সিডিএর কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করছে সংস্থাটি। দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক।

বুধবার দুপুরে সিডিএ কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক হামেদ রেজা।

দুদক সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় মেসার্স মডার্ন প্রপার্টিজ লিমিটেড ও মেসার্স হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে ১০১ দশমিক ৮৭ কাঠা জমি বরাদ্দ দেয় সিডিএ। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, বরাদ্দের দুই বছরের মধ্যে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কথা ছিল।

উল্লেখ্য, ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান—দুজনই এস আলম পরিবারের সদস্য। আহসানুল আলম হলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদের ছেলে এবং আবদুল্লাহ হাসান তার ভাই।

তবে বরাদ্দের প্রায় ২৫ বছর পার হলেও সেখানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বরং ২০২০ সালে ওই জমি বন্ধক রেখে এস আলম ট্রেডিং নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়, যা ইজারার শর্তবহির্ভূত।

দুদকের চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, দুদকের একটি টিম সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখে সেখানে চৌধুরী সুপার শপ ও রয়েল অটোকার নামে দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চলছে। অথচ সিডিএর নথিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদনের উল্লেখ নেই। জমি বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শর্ত লঙ্ঘন করে জমি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়েছে, কিন্তু সিডিএ তাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযান শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক হামেদ রেজা সাংবাদিকদের বলেন, “বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ করেও সিডিএ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি—এটি স্পষ্ট দায়িত্ব অবহেলা। এছাড়া বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠান হাসান আবাসন প্রাইভেট লিমিটেড ঋণ খেলাপিও হয়েছে। এখন বিষয়টি যাচাই করে সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণের পর প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে জমি বরাদ্দ ও ব্যবহারে সিডিএর নীরব ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।