উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন ভিন্ন দল, ভিন্ন প্রতীকে দিনভর মিছিল, সভা সমাবেশ আর স্লোগানে মুখর পুরো উল্লাপাড়া। কেউ অংশ নিচ্ছেন নিজ নিজ দলের কর্মসূচিতে, কেউ করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারও। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনশেষে ভোট দেওয়ার সময় অনেকেই দল নয়, ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম খানের দাঁড়ি পাল্লা মার্কায় ভোট দিবেন ।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন বাস্তবতা। মাঠে সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সততা, বিনয়ী আচরণ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কর্মকা-ে মুগ্ধ বহু ভোটার। ফলে প্রকাশ্যে ভিন্ন দলের কর্মসূচিতে অংশ নিলেও গোপন ব্যালটে ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন ব্যক্তিগত জীবনে রফিকুল ইসলাম খান সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা, সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে সক্রিয় উপস্থিতি সব মিলিয়ে ব্যক্তি হিসেবে তিনি এলাকায় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
সলঙ্গা এলাকার এক ভোটার বলেন, আমি অন্য দল করি, মিছিলেও যাই। কিন্তু সত্য কথা হলো, মানুষ হিসেবে রফিকুল ইসলাম খান ভালো। ভোট তো গোপন ভোট দেওয়ার সময় আমি তাকেই ভোট দেব।
আরেকজন প্রবীণ ভোটারের ভাষ্য, দল অনেক সময় বদলায়, কিন্তু ভালো মানুষ বদলায় না। উনি আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, সেটাই বড় কথা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি উল্লাপাড়া রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজ ও বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ভূমিকা রাখে। সেই জায়গায় রফিকুল ইসলাম খান অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন বলেই মনে করছেন তারা। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নীরব ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে, প্রকাশ্যে যতোটা দলীয় বিভাজন, ভেতরে ভেতরে ততোটাই ব্যক্তি কেন্দ্রিক সমর্থন। অনেকেই প্রকাশ্যে অবস্থান স্পষ্ট না করলেও আড্ডা, চায়ের দোকান কিংবা ঘরোয়া আলোচনায় রফিকুল ইসলাম খানের নামই ঘুরে ফিরে আসছে।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় শক্তির লড়াই নয়, বরং ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম খানের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার এক বড় পরীক্ষা। ভোটের দিন ব্যালট বক্সে সেই নীরব সমর্থনের কতটা প্রতিফলন ঘটে সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো এলাকা।