দাফনের পর তিন দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ আসছে কবর পানে। করছেন জিয়ারত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কবরস্থানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ, সহযোদ্ধা, ছাত্র-জনতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। সহযোদ্ধাকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার সহকর্মী ও স্বজনরা। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে চোখের পানি ফেলছেন, অনেকে মোনাজাত করছেন। অনেকে চিৎকার করে কান্না করছেন।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে বিদ্রোহী কবি নজরুলের কবরের পাশে এই কয়দিন, কেউ মোনাজাত করেন, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান হাদীকে। অনেকে মোনাজাতে কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করেন। অনেকেই বলছেন, হাদী একজন রাজনৈতিক কর্মীর বাইরেও বাংলাদেশপন্থি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যশোর থেকে হাদীর কবর জিয়ারত করতে এসেছিলেন আরিফুজ্জামান। সঙ্গে তার ছেলেও। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ আজও কবরস্থানে মানুষের ঢলে স্পষ্ট। কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্য একজন জানান, আমরা আমাদের ছেলেকে হারিয়েছি, দেশ একজন সাহসী সন্তানকে হারাল। তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার মোনাজাত করতে থাকেন, আর আশপাশের মানুষের চোখেও পানি দেখা যায়।
এদিকে গতকাল সোমবার শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের বিচারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং আগামী একমাসের মধ্যে বিচার নিশ্চিতসহ তিনদফা দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি আদায়ে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদি শপথ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ইনকিলাব মঞ্চের তিনদফা দাবি হলো-১. দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা। তদন্তের জন্য এফবিআই অথবা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদারী এবং নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করা। ২. সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা। ৩. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টাকে জনগণের কাছে তাদের অপারগতার কারণ প্রকাশ করে এই খুনের সব দায় নিয়ে পদত্যাগ করা। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট উপদেষ্টা, তার বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টাকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমাবেশে শরীফ ওসমান হাদীর ভাই শরীফ ওমর বলেন, খুনিরা যেখানে আছে, যে দেশে আছে, তাদেরকে আমাদের সামনে হাজির করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সামনে উপস্থাপন না করা হলে আগামীকাল প্রোগ্রামে আপনারা শপথ গ্রহণ করুন। সেই শপথ গ্রহণ করার পর থেকে হাদীর খুনিকে আমাদের সামনে প্রকাশ্যে হাজির করা না পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। কোনো এজেন্সি দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে আমাদেরকে থামাতে পারবেন না। ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, শুটার ফয়সাল শেষ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্টত রাষ্ট্রের একটা অংশ জড়িত, যারা এখনও ভারত এবং আওয়ামী লীগের স্বার্থে কাজ করে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
হাদীর কবর জেয়ারতে খেলাফত আন্দোলন নেতৃবৃন্দের
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেছেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন জালেম মুক্ত নতুন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার মহানায়ক। কিন্তু ভারতীয় এজেন্টরা হাদী ভাইকে সে সুযোগ দিলো না। হাদী ভাই গুলীবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করলেন ১০ দিন হলো কিন্তু সরকার সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সম্পুর্ণ ব্যর্থ। এজন্য জনগণকেই শহীদ ওসমান হাদীর রক্তের প্রতিশোধ নিতে তৈরী থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার যদি ওসমান হাদীর খুনিদের গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে না পারে তাহলে আগামীতে দেশের জনগণকে আরো শহীদের লাশ কাঁধে নিতে তৈরী থাকতে হবে। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের দেশ থেকে পলায়ন. গ্রেফতার করতে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।
গতকাল সোমবার বাদ জোহর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত করতে গেলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সামনে মুফতী ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আবুল কাসেম কাসেমী. যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন আকন্দ.সহকারী মহাসচিব আলহাজ্ব আলী মাকসুদ খান মামুন. মুসা খান. যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা ও ছাত্র নেতা হাফেজ তুহফাতুল্লাহ শামেল প্রমুখ।