কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে আব্দুল মজিদ : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় শীতের প্রভাব দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর রাতের হিমেল বাতাসে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটেখাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও নি¤œআয়ের পরিবারগুলো।

সকালের দিকে কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় ভোরে দৃশ্যমানতা কম থাকায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের চলাচলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শীতের কারণে অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজে বের হতে পারছেন না। এদিকে তীব্র শীতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে মৌসুমি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতেও। কুয়াশার কারণে রবিশস্যের জমিতে ছত্রাক ও রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোর ও সন্ধ্যায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য শীত দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, শীত আরও বাড়লে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।