স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনব্যবস্থা ছাড়া শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু। যাতে দেশের ক্ষমতা দুর্নীতিমুক্ত, দেশপ্রেমী ও আধিপত্যবাদ বিরোধীদের হাতে যায়। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা উঠে আসে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। এতে তারা ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।

আলোচনায় সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভানেত্রী শামীমা তাসনিম বলেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক দুষ্টচক্র চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সেই দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে তাদের, যারা অনেক টাকা দিতে পারবেন।’ শামীমা তাসনিম মনে করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া দেশে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না।

আলোচনার শুরুতে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের কর্মীরা ‘উই আর হাদি’, ‘জাস্টিস ফর হাদি’Ñদুটি স্লোগানÑসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সহকারী সাধারণ সম্পাদক নিয়ামা ইসলাম। আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো স্বৈরাচার পুনর্বাসিত হতে না পারে, মানুষের প্রতি সেই আহ্বান জানান সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম।

আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মেহের আফরোজ লুৎফা। বর্তমানে দেশ থেকে মেধা পাচারের হার অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রভাষক জীবন নেসা। তিনি বলেন, তরুণদের উৎসাহিত করতে হলে, তাদের দেশে রাখতে হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। যদি সুষ্ঠু ভোট না হয়, তাহলে দেশের মেধাবী তরুণেরা দেশে থাকতে চাইবেন না।

এদিন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনসহ মোট ৮ দফা দাবি জানায় সংগঠনটি। সেগুলো হলো- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, যেখানে সদস্যরা রাজনৈতিক ও সরকারি প্রভাবমুক্ত থাকবেন। ২. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, যাতে সব রাজনৈতিক দল সমানভাবে প্রচারণার সুযোগ পায়। ৩. ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে সহিংসতামুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়া যায়। ৪. ভোট গণনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ফলাফল ঘোষণায় কারচুপির সুযোগ না দেওয়া। ৫. নির্বাচনী অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ। ৬. গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, সত্য প্রকাশে বাধা থাকবে না। ৭. মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের চর্চা করা। ৮. দুদকসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, যাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া যায়।