মোঃ রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা কালিগঞ্জে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হাতে তৈরি খেঁজুর পাতার পাটি। এক সময় খেজুর পাতার পাটির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এটি এখন বিলুপ্তির পথে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাতে বুনন করা খেঁজুর পাতার তৈরি পাটি এখন আর দেখা মেলে না।
এটি একটি বিশেষ ধরনের পাটি, যা খেঁজুর গাছের পাতা দিয়ে তৈরি হয়। এটি সাধারণত মুসলিম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বারা ব্যবহৃত হতো। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের বৃদ্ধ মহিলা, বউ, মেয়েরা শীতকালে খেঁজুরের পাতার পাটি তৈরি করতো। এখনকার সময়ের মেয়েরা, বউরা অনেকে পাটি বুনতে জানে না, আবার অনেকে ভুলে গেছে।
খেঁজুর পাতার পাটি হলো একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তনির্মিত আসবাবপত্র এবং ঘরের সাজসজ্জা। এটি বাংলার গ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, কিন্তু বর্তমানে এটি ব্যবহার থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে। এক সময় খেঁজুর গাছের কাঁচা পাতা, পাতাগুলোকে বিভক্ত করে তারপর সন্ধ্যার পর অথবা সকাল বেলায় গ্রাম-গঞ্জের মহিলারা খেঁজুরের পাতা দিয়ে তৈরি করতো পাটি। বিশেষ করে এই পাটি ধান শুকানোর কাজে বেশী ব্যবহার করতো গ্রাম বাংলার মানুষেরা। তৈরি কৃত পাটি ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হতো।
খেঁজুর পাতার পাটি সাধারণত বাংলাদেশ বসার ও ঘুমানোর ঘরে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন জিনিসপত্র রোদে শুকানোর জন্য ব্যবহৃত হত। এটি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে যেমন হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হত। এটি মুসলিমেরা সালাত আদায়ের পাটি বা জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করত।
প্রথমে শীতের মৌসুমে খেঁজুর ঝুরে ডাল কেটে রোদে শুকানো হতো । “এ ডালগুলোকে গ্রাম্য ভাষায় বেগো বলা হয়।” ডালের গোড়ার অংশ এবং পাতার সামনের অংশ কেটে ফেলা হয়। ডাল থেকে পাতা ছাড়ানোর পরে, পাতা দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। ভাগ হয়ে গেলে, পাতার টুকরো গুলো পাটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবে প্রস্তুত করা হয়।
কালিগঞ্জ কৃষি অফিসের মাঠ কর্মী ”মিলি রাণী বলেন, খেঁজুর পাতার পাটি এখন আর চোখে পড়ে না। বলা চলে এটা যেন একেবারেই বিলুপ্তির পথে। আগের দিনে গ্রামাঞ্চলে খেঁজুরের শুকনো পাতা দিয়ে পাটি তৈরি হতো। প্রায় বাড়িতে এ পাটি দেখা যেতো। এখন এ পাটির স্থান দখল করেছে প্লাস্টিকের পাটি, পলিথিনসহ আধুনিক জিনিসপত্র। এছাড়া খেঁজুর গাছের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।”
পাতা দিয়ে তৈরি পাটি এখন বিলুপ্তির পথে, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং আধুনিক উপকরণ যেমন প্লাস্টিকের পাটি ও পলিথিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া। আগে যেখানে শত শত খেঁজুর গাছের দেখা মিলতো, সেখানে এখন গাছি সংকট, অবহেলার কারণে খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে। এর ফলে, ঐতিহ্যবাহী এই পাটি তৈরির কাঁচামাল দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। এর স্থান দখল করেছে প্লাস্টিক, বাঁশ ও বেতের মতো আধুনিক পাটি। গাছি সংকট, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কারণে কালিগঞ্জে খেঁজুর গাছের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে গৃহস্থালীর কাজে খেঁজুর পাতার পাটির ব্যাপক ব্যবহার ছিল, সেখানে এখন প্লাস্টিকের পাটি ও পলিথিনের মতো আধুনিক ও সস্তা বিকল্প সহজলভ্য জিনিসপত্র স্থান দখল করে নিয়েছে। খেঁজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এর পাতা দিয়ে পাটি বুননের ঐতিহ্যবাহী কৌশলটিও এখন বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে।