স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিনিরাইল গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘জামাই মেলা’ নামে পরিচিত এই মেলায় শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া ও জামাই আপ্যায়নের জন্য বড় মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে চলে নীরব প্রতিযোগিতা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এ মেলা শুধু কেনাবেচার নয়, সম্পর্ক, রেওয়াজ আর সামাজিক মিলনমেলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বিনিরাইল ও আশপাশের মাঠজুড়ে নামে মানুষের ঢল। দিনভর ও রাত পর্যন্ত চলা এ মেলায় লাখো মানুষের পদচারণায় গ্রামটি পরিণত হয় এক রঙিন জনপদে। দূরদূরান্ত থেকে আগত জামাই-শ্বশুরসহ সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মেলা প্রাঙ্গণে দুই শতাধিক মাছ ব্যবসায়ী সামুদ্রিক ও নদীর নানা প্রজাতির বড় মাছের পসরা সাজান। চিতল, বাঘাইড়, আইড়, বোয়াল, কালী বাউশ, পাবদা, গলদা চিংড়ি, ইলিশসহ নানা দেশি-বিদেশি মাছ নজর কাড়ে ক্রেতাদের। মাছের পাশাপাশি মেলায় থাকে মিষ্টি, খেলনা, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান।

এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ। মাছটির দাম হাঁকা হয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। দর কষাকষিতে একজন জামাই সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা বললেও বিক্রেতা মাছটি ছাড়েননি, যা ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি মাওলানা আলী হোসেন জানান, প্রায় ২৫০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা এখন কালীগঞ্জের সবচেয়ে বড় মাছের মেলা হিসেবে পরিচিত এবং সময়ের সঙ্গে এটি সর্বজনীন সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিনিরাইলের এই মাছের মেলা মূলত জামাই-শ্বশুরের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হলেও, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এটি এখন সবার মিলনস্থল। বছরের একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকেন এলাকার মানুষ, আর সেই দিনেই বিনিরাইল হয়ে ওঠে আনন্দ-উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।