স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনটি রীতিমতো উৎসবে পরিণত হয়। সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। উৎসবমুখর এই পরিবেশে গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে একজন করে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমাদান শেষে গাজীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোঃ হোসেন আলী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত এবং জনবান্ধব একটি গাজীপুর গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গাজীপুরবাসী আগামী নির্বাচনে ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবে।
এ সময় গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দল ও জোটের মধ্যে যে সমন্বয় গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তিতেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে। তিনি জানান, জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে, জামায়াত ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করবে এবং শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দলটির মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে কেবল গাজীপুর-২ আসনেই দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিদ্রোহী ওই প্রার্থী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিকদলের কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহ উদ্দিন সরকার। অন্য চারটি আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বাইরে আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দিনভর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবের আবহ।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালনে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।